বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > সিলিং ফ্যানে ঝুলছে বাবা–মা, ছেলের দেহ বিমে! সপরিবারে আত্মঘাতী বিধানসভার কর্মী?
সুপ্রিয় মণ্ডল, চন্দ্রব্রত মণ্ডল ও মায়ারানি মণ্ডল। ছবি :‌ সংগৃহীত
সুপ্রিয় মণ্ডল, চন্দ্রব্রত মণ্ডল ও মায়ারানি মণ্ডল। ছবি :‌ সংগৃহীত

সিলিং ফ্যানে ঝুলছে বাবা–মা, ছেলের দেহ বিমে! সপরিবারে আত্মঘাতী বিধানসভার কর্মী?

  • ছেলে সুপ্রিয় ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ভিনরাজ্যে কর্মরত ছিলেন। পরে অবশ্য বাবার ইচ্ছেতে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন।

বাড়ি থেকে উদ্ধার বাবা, মা ও ছেলের ঝুলন্ত দেহ। বুধবার এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া পড়েছে ঠাকুরপুকুর থানা এলাকার জোকার পাত্রপাড়ায়। জানা গিয়েছে, বাড়ির কর্তা চন্দ্রব্রত মণ্ডল (‌৫০)‌ বিধানসভার গ্রুপ ডি কর্মী ছিলেন। বুধবার সকালে ডাকাডাকি করায় সাড়া না পেলে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। এর পর বাড়িতে ঢুকে চন্দ্রব্রত, তাঁর স্ত্রী মায়ারানি (‌৪৫)‌ ও ছেলে সুপ্রিয় মণ্ডলের (‌২৮)‌ ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা।

কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল বুঝে উঠতে পারছেন না এই পরিবারের আত্মীয়–স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ঠাকুরপুকুর থানা। লালবাজারের হোমিসাইড শাখাও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন গৃহকর্তা। বাজার থেকে, স্থানীয়দের থেকেও প্রচুর ধার হয়ে গিয়েছিল তাঁর। আর্থিক কারণে জেরবার হয়েই আত্মহত্যা করতে পারেন তাঁরা।’‌

এদিন সকালে জোকার পাত্রপাড়ার দোতলা ওই বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল?‌ পুলিশ জানিয়েছে, কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ার পর এবং ঘরের সদর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির পাঁচিল টপকে ছাদে যায়। কিন্তু ছাদের দরজাও তালা দেওয়া ছিল। শেষে সেই তালা ভেঙে ঘরের ভেতর ঢোকেন তাঁরা। ভেতরে গিয়ে দেখেন, বাবা–মা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আর ছেলেটি ওই ঘরের একটি বিমের সঙ্গে ঝুলছেন।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এলাকায় ছোট পরিবার সুখী পরিবার বলে পরিচিত ছিল বিধানসভার কর্মী চন্দ্রব্রতবাবুর সংসার। বাড়িতে কোনও গন্ডগোলও চোখে পড়ত না। ছেলে সুপ্রিয় ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ভিনরাজ্যে কর্মরত ছিলেন। পরে অবশ্য বাবার ইচ্ছেতে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। পোষ্য এবং বিভিন্ন পাখির ব্যবসা শুরু করেছিলেন সুপ্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি পাখিগুলি বিক্রি করে দেন তিনি। এলাকায় কয়েকজনকে দিয়েও দেন কয়েকটি পাখি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি পরিকল্পনা করেই আত্মহত্যা করলেন মণ্ডল পরিবারে তিন সদস্য?‌

যদিও তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন তা মেনেই উঠতে পারছেন না চন্দ্রব্রতবাবুর আত্মীয়রা। তাঁর ভাগনির কথায়, ‘‌এই পরিবারে কোনও গন্ডগোল ছিল না। কোনও অসুবিধা হলে মামা আমাদের নিশ্চয়ই জানাতেন। দু’‌দিন আগে যাঁর মুখে হাসি দেখেছি, তাঁর এই অবস্থা আমরা ভাবতে পারছি না। যে মামা সব সময় খুশি থাকার কথা বলতে তিনি আজ এ কী করল, ভাবতে পারছি না। আর ভাই যে চাকরি করছে না বলে অনেক টেনশনে রয়েছে এমন কিছুও ছিল না।’‌ ইতিমধ্যে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলছে।

বন্ধ করুন