বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > অধীর–বিমান তরজায় ভেস্তে গেল সমাধানসূত্র, সমঝোতা বৈঠকে অনৈক্যের ছবি প্রকট
শুক্রবার বিধানসভা নির্বাচনে স্ট্র‌্যাটেজি ঠিক করার বৈঠকে মতের মিল হল না কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট নেতাদের।
শুক্রবার বিধানসভা নির্বাচনে স্ট্র‌্যাটেজি ঠিক করার বৈঠকে মতের মিল হল না কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট নেতাদের।

অধীর–বিমান তরজায় ভেস্তে গেল সমাধানসূত্র, সমঝোতা বৈঠকে অনৈক্যের ছবি প্রকট

  • ছিল ঐক্যের বৈঠক। জোটের বৈঠক। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্ট্র‌্যাটেজি ঠিক করার বৈঠক। কিন্তু সেখানে দেখা গেল চূড়ান্ত অনৈক্য। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু মেজাজ হারালেন।

ছিল ঐক্যের বৈঠক। জোটের বৈঠক। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্ট্র‌্যাটেজি ঠিক করার বৈঠক। কিন্তু সেখানে দেখা গেল চূড়ান্ত অনৈক্য। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু মেজাজ হারালেন। আর তাতেই অনৈক্যের ছবিটি ফুটে উঠল। এখন প্রশ্ন উঠছে, বৈঠকের শুরুতেই যদি এই হাল হয় তাহলে আসনবন্টন নিয়ে কী হবে?‌

জানা গিয়েছে, শুক্রবার অধীররঞ্জন চৌধুরী প্রশ্ন করেন, কেন আজকের বৈঠক ক্রান্তি প্রেসে? কেন প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে বৈঠক নয়? আর এই প্রশ্নতেই গোল বাধল। পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই ক্রান্তি প্রেসে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের সমঝোতা বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে ছন্দপতন ঘটে বেশ কয়েকবার। প্রথমে বাম–কংগ্রেস ঐক্য নয়, আগে কংগ্রেস পরে বামফ্রন্ট অর্থাৎ কংগ্রেস–বাম ঐক্যকেই মান্যতা দিতে হবে। এই দাবি তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি। তা শুনে বৈঠকের মাঝখানে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃত্ব আশঙ্কায় রয়েছেন শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা নিয়ে ঐক্যে ফাটল না ধরে।

এই বৈঠকে অধীরের যুক্তি ছিল, বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা যেহেতু এখন বামফ্রন্টের চেয়ে বেশি, তাই বামফ্রন্টের সঙ্গে যাবতীয় বৈঠক হবে প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে। যা শুনে হতবাক হয়ে যান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু–সহ অন্যান্য বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। তারপরই কী কারণে বাম–কংগ্রেস জোট লেখা যাবে না, কেনই বা আগে কংগ্রেস লিখতে হবে পরে বামফ্রন্ট। এই নিয়ে দীর্ঘক্ষণ তর্ক শুরু হয়ে যায়। বৈঠকে উপস্থিত নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, অধীর চৌধুরির কথাবার্তায় সন্তুষ্ট নয় বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। যদিও আসন সমঝোতার জন্য কংগ্রেসের কাছেও বামফ্রন্ট ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। এই অযথা তর্কের জন্য বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। পরবর্তী বৈঠক কবে এখন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কবে বৈঠক হবে তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি জানান, বামফ্রন্ট যে সমস্ত কর্মসূচি নিয়েছে সেগুলি তারা এককভাবে করুক। কংগ্রেস সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে না। বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পরেই কংগ্রেসের কর্মীরা বামফ্রন্টের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি নেবে। বামেদের কর্মসূচিতে কংগ্রেসকে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল বহু আগেই। তা এদিন খারিজ করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। এখন প্রশ্ন উঠছে, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের সমঝোতা সাফল্য পাবে কী?‌

বন্ধ করুন