বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বর্ষবরণে মানুষের ভিড় ঠেকাতে পুলিশের ভরসা মানুষই!‌ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শহর
কলকাতা শহরের যে সব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে লালবাজার।
কলকাতা শহরের যে সব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে লালবাজার।

বর্ষবরণে মানুষের ভিড় ঠেকাতে পুলিশের ভরসা মানুষই!‌ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শহর

  • লালবাজার সূত্রে খবর, ভিড় নিয়ন্ত্রণে আদালত মঙ্গলবার যে কয়েকটি নির্দেশিকার কথা বলেছে, সেগুলি মানা হবে।

বর্ষবরণের রাতে জনজোয়ার ঠেকাতে মানুষের উপরেই ভরসা রাখছে কলকাতা পুলিশ। কারণ ২০২০ সালের করোনা যেভাবে মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে তা থেকে তাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন নিশ্চয়ই। তাই লালবাজার সূত্রে খবর, ভিড় নিয়ন্ত্রণে আদালত মঙ্গলবার যে কয়েকটি নির্দেশিকার কথা বলেছে, সেগুলি মানা হবে। করোনার থাবায় মানুষ যখন দিশেহারা তখনই বাংলায় আছড়ে প‌ড়েছিল ঘূর্ণিঝড় আমফান। গৃহহীন হয়েছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। সব মিলিয়ে ২০২০ সালটা বাঙালির কাছে অপ্রাপ্তির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তবু নতুন বছরকে আলিঙ্গন করার ইচ্ছা গলি থেকে রাজপথে নিয়ে যায়। তাই আশঙ্কা।

পার্ক স্ট্রিট বা ভিক্টোরিয়ার মতো শহরের যে সব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে লালবাজার। যার মধ্যে রয়েছে, মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার বিলি। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার করা হবে, যাতে উৎসাহী মানুষ এক জায়গায় ভিড় না করেন। এখন নতুন জাতের করোনা টের পেয়েছে মহানগরী। ফলে মানুষ যখন সামান্য থিতু হয়ে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার কথা ভাবছেন, তখন নতুন জাতের করোনা সব যেন বানচাল করতে প্রস্তুত।

প্রাপ্তি–অপ্রাপ্তির মধ্যে বর্ষ বিদায় করতে বসে অনুপমের গানের সেই লাইনগুলিই মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছে, ‘‌যেটা ছিল না ছিল না সেটা না পাওয়াই থাক। সব পেলে নষ্ট জীবন।’‌ যা শুনে কলকাতা পুলিশের একাধিক অফিসারের বক্তব্য, মানুষ যদি সংযত হন, তাহলেই ভিড় কম হবে। তা না হলে ফের বড়দিনের রাত ফিরে আসবে পার্ক স্ট্রিটে।

এখন প্রশ্ন, তাহলে ২০২১ সালও কি এভাবে কাটবে?‌ উত্তর অবশ্য সময় বলে দেবে। আপাতত করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন, সেই চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মীদের অনেকেই প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। বহু পুলিশকর্মী, সরকারি আধিকারিক, সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহক তাঁদের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে কোভিডের বলি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে লালবাজার সূত্রে খবর, বর্ষবরণের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে ১৫টি পুলিশ সহায়তা শিবির বানানো হয়েছে। যেগুলি সহায়তা কেন্দ্রের কাজ করবে। ট্র্যাফিক পুলিশের যে সব কিয়স্ক পার্ক স্ট্রিট বা তার আশপাশে রয়েছে সেগুলিকেও সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, বড়দিনের রাতে জনজোয়ারে ভেসেছিল পার্ক স্ট্রিট। কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছিল করোনার যাবতীয় বিধিনিষেধ। সামাজিক দূরত্বের বালাই ছিল না। তারপরেই এক জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যেই বাংলা দেখেছে এই বছরে নক্ষত্রপতনও। প্রয়াত হয়েছেন ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য–রাজনীতির বর্ণময় চরিত্র সোমেন মিত্র, সাহিত্যিক দেবেশ রায়, কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, অনুবাদক মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। কিংবদন্তি ফুটবলার পিকে–চুনির প্রয়াণ।

সুতরাং প্রাপ্তির থেকে অপ্রাপ্তির ঝুলিই বেশি। আর যাতে এমন অপ্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে বছর শেষ করতে না হয় তাই লালবাজার জানিয়েছে, পার্ক স্ট্রিটের মোড় থেকে মল্লিকবাজার মোড় পর্যন্ত অংশকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ভিড় সামলানোর জন্য থাকছেন ডিসি পদমর্যাদার পাঁচজন অফিসার, যাঁরা এক একটি ভাগের দায়িত্ব সামলাবেন। পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকার ভিড়ের উপরে নজরদারি চালানোর জন্য থাকছে একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। ওই এলাকায় নজরদারি চালানোর জন্য ১১টি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে।

বন্ধ করুন