বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির চাপেই খুন করলেন স্বামী, মনোহরপুকুর খুনে নয়া মোড়
মনোহরপুকুর রোডের আবাসনে পৌঁছয় রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ।

স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির চাপেই খুন করলেন স্বামী, মনোহরপুকুর খুনে নয়া মোড়

  • এই ফোন পেয়ে ৩৩/সি মনোহরপুকুর রোডের আবাসনে পৌঁছয় রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ।

হঠাৎ ১০০ ডায়াল করে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন। আর ফোনে স্বামী জানালেন, স্ত্রীকে খুন করেছি। মেয়ে জখম অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে। এই ফোন পেয়ে ৩৩/সি মনোহরপুকুর রোডের আবাসনে পৌঁছয় রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। পুষ্পক অ্যাপার্টমেন্টের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে পুলিশ দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা বাজাজ (৪৫)। তাঁর স্বামী অরবিন্দ বাজাজ (৪৭) স্বীকার করেন যে, তিনিই স্ত্রীকে খুন করেছেন। চাবি সংক্রান্ত অশান্তির জেরেই রাগের মাথায় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে খুন করেন অরবিন্দ বাজাজ। জেরায় এই কথা অরবিন্দ স্বীকার করেছে। তবে নিজের কৃতকর্মের জন্য এখন অনুতপ্ত অরবিন্দ। সংসারে স্ত্রী ছড়ি ঘোরাতো মাথার উপর। আর তাঁর এই চাপে মানসিক শান্তি নষ্ট হচ্ছিল অরবিন্দর। তিনি মানসিক অবসানে ভুগছিলেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, অরবিন্দ তাঁর মেয়ে অদ্বিকাকে (১৮) খুনের চেষ্টা করে। তাঁদের দু’জনকেই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রিয়াঙ্কাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অদ্বিকা হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি। খুনের অভিযোগে অরবিন্দকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত দু’বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন অরবিন্দ।

কিন্তু মেয়েকে খুনের চেষ্টা কেন করলেন অরবিন্দ?‌ জানা গিয়েছে, স্ত্রীকে খুন করতে যখন মরিয়া অরবিন্দ, একের পর এক শরীরে ছুরি চালাচ্ছিল তখন মেয়ে বাধা দেয়। তারপর স্ত্রীর মৃত্যু ঘটলে মেয়েকে আক্রমণ করেন অরবিন্দ। পরে বাঁচানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করেন। পাশাপাশি ১০০ নম্বর ডায়াল করে পুলিশের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে আত্মসমর্পণ করেন অরবিন্দ।

সমস্যাটা কোথায় ছিল?‌ জেরা পর্বে যা উঠে আসে তাতে অরবিন্দর বয়ান, দীপাবলির জন্য প্রিয়াঙ্কাকে আলমারি থেকে তাঁদের পৈতৃক বাসন বের করে দিতে বলেন অরবিন্দ। কিন্তু তখন প্রিয়াঙ্কা জানান তাঁর কাছে চাবি নেই! এই উত্তর শুনে অরবিন্দ শ্বশুরকে ফোন করেন। শ্বশুর জানান, চাবি অন্য এক বন্ধুর কাছে আছে। এই চাবি নিয়ে অশান্তির জেরেই খুন করা হয় প্রিয়াঙ্কাকে।

এখন প্রশ্ন এই সংসারের চাবি শ্বশুরবাড়িতে কেন থাকবে?‌ পুলিশের কাছে অরবিন্দ জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়ি জামাইকে কন্ট্রোল করতে চাইত। তাই স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে সেখান থেকে চালনা করা হতো। এমনকী ১৫ বছর ধরে শ্বশুরবাড়ির সিমেন্টের ব্যবসায় কর্মচারী হিসাবে কাজ করতেন অরবিন্দ। তাও আবার মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে। সেই টাকাতেই প্রিয়াঙ্কা–অরবিন্দ বাজাজের সংসার চলত। এই ১৫ হাজার টাকার মধ্যেই পড়াশোনার খরচ চালাতে হতো মেয়ের। অরবিন্দ আলাদা ব্যবসা করতে চাইলে তাতে বাধা দেয় শ্বশুরবাড়ি। ফলে শ্বশুরবাড়ির ব্যবসার কাজ ছেড়ে দিতে হয়। তারপর থেকে কাজ জোটেনি। একবার টালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্ত্রী অরবিন্দর বিরুদ্ধে। তখন মামলা না হলেও বিয়েতে দেওয়া বাবার সম্পত্তি প্রিয়াঙ্কা তখন অরবিন্দের থেকে ফিরিয়ে নেন। শ্বশুরবাড়ির চাপ বাড়ছিল। যা সহ্য করতে পারছিলেন না অরবিন্দ। যার পরিণতি হল এভাবে।

এই ঘটনায় খুন এবং খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আজ, রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে। তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, অরবিন্দরা দুই ভাই–বোন। দিদি থাকেন টালিগঞ্জে। বাবা–মা প্রয়াত হয়েছেন আগেই। বাবার কেনা মনোহরপুকুরের ফ্ল্যাটেই থাকতেন অরবিন্দ। কিন্তু একদিকে আর্থিক অন্যদিকে মানসিক চাপ তাঁকে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য করল।

বন্ধ করুন