বাঁ দিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডান দিকে ভাঙচুরের পর বিধানসভা কক্ষের অবস্থা। ফাইল ছবি
বাঁ দিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডান দিকে ভাঙচুরের পর বিধানসভা কক্ষের অবস্থা। ফাইল ছবি

আমি কিচ্ছু করিনি, ১৩ বছর পর বিধানসভা ভাঙচুর নিয়ে মুখ খুলে দাবি মমতার

  • মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর জুতো কেড়ে নিয়েছিল নিরাপত্তারক্ষীরা

তিনি বিধানসভা ভাঙচুর করেননি। শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনটাই দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সেদিন তাঁর চটি কেড়ে নিয়েছিল বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা। সুজন চক্রবর্তীর করা এক প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণে ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তব্য রাখতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রায় সমস্ত অশান্তির জন্য তিনি দায়ী করেন বিরোধীদের। বিভিন্ন সময় তাঁকে বাধা দেন বাম পরষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী দমেননি।

এরই মধ্যে ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভাঙচুর নিয়ে প্রশ্ন করেন সুজনবাবু। জানতে চান, সেদিন বিধানসভা কে ভাঙচুর করেছিল? জবাবে মমতা বলেন, ‘আমি কোনও জিনিসে হাত দিইনি। আপনি আপনার দাবি প্রমাণ করুন অথবা প্রত্যাহার করুন।’

মমতার দাবি, ‘সেদিন আমাকে সিঙুরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফিরে এসে বিধানসভায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু বিধানসভায় ঢুকতেও বাধা পাই। আমার জুতো কেড়ে নিয়েছিল।’ এর পরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিচ্ছু করিনি। সব রেকর্ডে আছে। সুজনবাবু নিজের বক্তব্য প্রমাণ করুন অথবা প্রত্যাহার করুন।’

২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শীতকালীন অধিবেশন চলছিল। তখন চরমে ছিল সিঙুর আন্দোলন। ওই দিন কলকাতা থেকে সিঙুরে ঢোকার চেষ্টা করেন মমতা। পথে তাঁকে বাধা দেয় পুলিশ। এর পর কলকাতায় ফিরে এসে সটান বিধানসভায় চলে যান তিনি। সেখানে গিয়ে সংবিধানের প্রতিলিপি হাতে নিয়ে চিৎকার করে দলের বিধায়কদের তাঁর ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ করতে থাকেন তিনি। তখনই বিধানসভার শতাব্দীপ্রাচীন আসবাব ভাঙচুর শুরু করেন তৃণমূল বিধায়করা। প্রথমে বিধানসভা কক্ষের বাইরে ও পরে ভিতরেও ব্যাপক ভাঙচুর হয়।



বন্ধ করুন