বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে টাকার থলি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দেশি - বিদেশি শিল্পপতিরা
Union Finance Minister Nirmala Sitharaman addresses Tamil Nadu Jan Samvad Rally through video conferencing, in New Delhi on Thursday. (ANI Photo)
Union Finance Minister Nirmala Sitharaman addresses Tamil Nadu Jan Samvad Rally through video conferencing, in New Delhi on Thursday. (ANI Photo)

পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে টাকার থলি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দেশি - বিদেশি শিল্পপতিরা

  • পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়ে সীতারমণ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ফের শিল্পায়ন শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গে বেশি করে বিনিয়োগ আনতে দেশের সমস্ত রাজ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বেশি করে শিল্প আসা উচিত।

পশ্চিমবঙ্গে ফের শিল্পায়নের ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। রবিবার বিজেপির ভার্চুয়াল জনসভায় তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য দেশি – বিদেশি শিল্পপতিরা মুখিয়ে রয়েছেন। বাধা শুধু রাজনৈতিক হিংসা আর পুলিশের পক্ষপাতদুষ্টতা।’

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়ে সীতারমণ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ফের শিল্পায়ন শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গে বেশি করে বিনিয়োগ আনতে দেশের সমস্ত রাজ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বেশি করে শিল্প আসা উচিত। আসার জন্য শিল্পপতিরা তৈরি। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও তৈরি।‘

কিন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজার চেষ্টা সত্বেও কেন বিনিয়োগ আসছে না পশ্চিমবঙ্গে? কারণ ব্যাখ্যা করে সীতারমণ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে গত ৫ বছর ধরে হিংসার রাজনীতি চলছে। বিশেষ করে বিরোধীদের গ্রেফতার করে আটকে রাখা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের একের পর এক হত্যা হচ্ছে। বিরোধীদের ন্যায় পাওয়ার কোনও জায়গা নেই। অপরাধীরা গ্রেফতার হয় না। এজন্যই পশ্চিমবঙ্গে শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করতে ভয় পান।‘

বলে রাখি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের দশা খুবই করুণ। শিল্প সম্মেলনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রস্তাব এলেও বিনিয়োগ হয়েছে খুব সামান্যই। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীদের কাজের খোঁজে ছুটতে হয়েছে ভিনরাজ্যে। করোনার লকডাউনের পর পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার যে কী প্রবল সেই ছবি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।

সঙ্গে শিল্পায়নে অন্যতম বাধা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে রাজ্য সরকারের জমি নীতি। শিল্পের জন্য সরকার চাষযোগ্য জমি কোনও অবস্থাতেই নেবে না বলে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জেরে বহু শিল্পপতি পিছিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি শিল্পমহলের। উদ্যোগীদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমি কেনার জটিলতায় যেতে চান না কোনও বিনিয়োগকারীই। আর পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য, যেখানে ভূমি সংস্কারের ফলে জমির মালিকানা ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত সেখানে শিল্পপতির পক্ষে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে জমি কেনা অসম্ভব। সমস্যার সমাধান হিসাবে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু সরকারের জমি অধিগ্রহণবিরোধী অবস্থানের জেরে আর উৎসাহ দেখাননি কোনও শিল্পপতি।  

তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন হয়নি তা মানতে নারাজ রাজ্য সরকার। বড় শিল্পের বদলে ছোট ও মাঝারি শিল্পে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সরকারের। এই শিল্পে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বেশি বলেও দাবি করেন সরকারের পদস্থ ব্যক্তিরা। 

এদিন নির্মলা সীতারমণ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলে পশ্চিমবঙ্গে ফের শিল্পায়নের জন্য সব চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে হিংসা ছড়িয়ে রেখেছে। যার ফলে মানুষের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে।‘ 

 

বন্ধ করুন