বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > গড়রক্ষা করতে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে সাংগনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

গড়রক্ষা করতে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে সাংগনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল

  • বিপত্তির সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডেকে নিয়ে। আমফান পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য কলকাতার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বসেন তিনি।

বিধানসভা ভোটের আগে দলের সংগঠনে ব্যাপক রদবদল করতে চলেছে তৃণমূল। প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা IPAC-এর সমীক্ষা অনুসারে দলে রদবদল হবে বসে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন এক বরিষ্ঠ তৃণমূল নেতা। একই সঙ্গে দলে থেকে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। 

ঘূর্ণিঝড় আমফান যাওয়ার পর থেকেই ঝড় শুরু হয়েছে তৃণমূলে। দলের নেতাদের সমালোচনায় প্রকাশ্যে সরব হচ্ছেন মন্ত্রী – সাংসদরা। যা নিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। 

বিপত্তির সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডেকে নিয়ে। আমফান পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য কলকাতার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বসেন তিনি। সেজন্য তাঁকে শো-কজের চিঠি ধরিয়েছে দল।

এর পর সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরার বিরুদ্ধে সরব হন বরিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে না যাওয়ায় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তাঁর সমালোচনা করেন তিনি। এই তালিকায় তৃতীয় ব্যক্তি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পঞ্চায়েতের কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন তিনি। 

এই নিয়ে দলের এক বরিষ্ঠ নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘দলের একের পর এক সিনিয়ন নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে ক্ষেপে উঠছেন তা আশঙ্কার। দল তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু তাঁরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে গেলেন কেন? তারা কি কোনও বার্তা দিতে চাইছেন? সেটা বোঝার দরকার।’

দিন কয়েক আগে এক ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ‘দলে থেকে দলের ক্ষতি করার বদলে কারও সমস্যা থাকলে চলে যেতে পারেন।’

শুধু নেতা-মন্ত্রীরাই নন, তৃণমূলের নীচু তলাতেও লাগাতার বিবাদ লেগে রয়েছে। রোজই দলীয় সংঘর্ষের খবর মিলছে। তাতে প্রাণও গিয়েছে কয়েক জনের। এরই মধ্যে মুকুল রায়ে দিল্লি ভ্রমণে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। বরাবরের মতো দিল্লি থেকে ফিরেও তিনি দাবি করেছেন, ‘একাধিক তৃণমূল নেতা মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘অনেকের সঙ্গেই কথা হয়েছে। যথা সময় তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করবেন।’

তৃণমূলে যে মুষল পর্ব শুরু হয়েছে তাতে ঘি ঢালতেও পিছু পা হচ্ছে না বিজেপি। দলের নেতাদের সমালোচনা করায় সাধন পাণ্ডে, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন বিজেপি নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দের ব্যাপারে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। তবে কিছু লোক যে সত্যি কথা বলতে শুরু করেছেন এটা ভাল ব্যাপার।’

এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশান্ত কিশোরের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তাদের সমীক্ষার তথ্য অনুসারে একাধিক জেলায় সংগঠনে ব্যাপক রদবদল হবে বলে খবর। দলের এক নেতার কথায়, ‘অকেজো নেতা ও মন্ত্রীদের বাদ দেওয়া হবে। তাদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার দেওয়া পরামর্শ ও তাদের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ও নীতিগত রদবদলের পথে হাঁটবে তৃণমূল।’

ওদিকে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘দলে বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত হবে না।’ তিনি জানান, ‘বিদ্রোহী নেতাদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ও তৃণমূলের প্রতীকে ভোট দেন। তাঁকে ছাড়া আমাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। দলে থাকলে দলের নীতি ও শৃঙ্খলা মানতেই হবে। মতের অমিল হলে তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যেতে পারে। কিন্তু প্রকাশ্যে কখনোই মুখ খোলা যাবে না।’

তবে তৃণমূলের কোন্দলে খুশি সিপিএম ও কংগ্রেস। তাদের দাবি, নিজের কৃতকর্মের ফল ভুগছে তৃণমূল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম – কংগ্রেসের মতো ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে শেষ করে বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার করেছে তৃণমূলই।’

বন্ধ করুন