বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > Kolkata Book Fair 2021: কলকাতা বইমেলা পিছিয়ে জুলাই মাসে, কাদা প্যাচপ্যাচে মাঠে ছাতা মাথায় হবে বই–উৎসব?‌
এবার এভাবেই বই পড়তে হতে পারে বইমেলায়। ছবি : সংগৃহীত
এবার এভাবেই বই পড়তে হতে পারে বইমেলায়। ছবি : সংগৃহীত

Kolkata Book Fair 2021: কলকাতা বইমেলা পিছিয়ে জুলাই মাসে, কাদা প্যাচপ্যাচে মাঠে ছাতা মাথায় হবে বই–উৎসব?‌

  • বইমেলার থিম করা হয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বইমেলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবর্ষ এবং সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষও পালিত হবে।

করোনার জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছিল কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এ বছর বইমেলা না হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। তবে অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বইমেলা আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে গিল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী জুলাই মাসে হবে ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। মেলা বসবে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে।

কিন্তু জুন মাসের কত তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে বইমেলা?‌ সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। দিনক্ষণ না ঘোষণা করা হলেও গিল্ড জানিয়েছে, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রকাশক, পুস্তক বিক্রেতা, লিট্‌ল ম্যাগাজিন স্টলের জন্য আগামী ১ মার্চ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার মেনে জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ পর্যন্ত বইমেলা হওয়ার কথা ছিল। করোনার জেরে তা পিছিয়ে গেল জুলাই মাসে।

এদিকে, জুলাই–অগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার মরশুম থাকে। তা হলে কি কাদা প্যাচপ্যাচে মাঠে, মাথায় ছাতা নিয়ে বইয়ের খোঁজে আসতে হবে বইপোকাদের?‌ কেন এমন সময় বইমেলার আয়োজন?‌ এ ব্যাপারে গিল্ড কর্তৃপক্ষের সাফাই, জুলাই মাসের আগেই রাজ্যে নির্বাচনের পালা মিটে যাবে। তা ছাড়া মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, আইসিএসসি এবং সিবিএসসি বোর্ডের পরীক্ষার কারণেই এতটা পিছিয়ে দিতে হয়েছে বইমেলা। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ। গিল্ড কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, ভ্যাকসিন যেহেতু চলে এসেছে তাই জুন–জুলাই মাস নাগাদ আন্তর্জাতিক উড়ান চলাচলও শুরু হবে।

এদিকে, বৃষ্টির মরশুমের কথা মাথায় রেখে এবার বিদেশের ধাঁচে বইমেলা আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘বিদেশের বইমেলা যেমন হয় ঠিক সেই ধাঁচে এবারের কলকাতা বইমেলা করব আমরা। সেখানে থাকবে এসি হ্যাঙার। মাঠের ভেতরে ছাউনি এবং সেখানেই বুকস্টলগুলি থাকবে। ফলে বৃষ্টি কিংবা রোদে বইপ্রেমীদের কোনও অসুবিধা হবে না।’ বইমেলার জন্য রাজ্য সরকার যানবাহনের ব্যবস্থাও করে। সেই যানবাহনের মাধ্যমে একবার মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারলেই নিশ্চিন্ত।

উল্লেখ্য, এসি হ্যাঙার হল, বইমেলায় আয়োজনে একটি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী পরিকাঠামো। প্রতিবছর ইংরেজি প্রকাশনীর স্টলগুলির জন্য দুই–তিনটি এসি হ্যাঙার থাকে। এবারে পুরো মাঠ জুড়েই তৈরি করা হবে এই ধরনের হ্যাঙার। তবে বইমেলায় আসা জনতাকে কড়া কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে। প্রবেশ এবং প্রস্থান দুটি গেট আলাদা করা হবে। সেখানে ঢোকা থেকে বাইরে বেরোনো পর্যন্ত থাকছে এই অস্থায়ী পরিকাঠামো। তাতে মানুষ অনেকটা স্বস্তিবোধ করবেন। থাকছে স্যানিটাইজার এবং বিনামূল্যে মাস্ক দেওয়ার ব্যবস্থাও। দূরত্ব–বিধি বজায় রাখার জন্য ঘোষণার পাশাপাশি পুলিশ–প্রশাসনকে বেশি করে রাখা হবে।

এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বইমেলার থিম করা হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এ বারের কলকাতা বইমেলায় শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদ্‌যাপন করা হবে। সেই মোতাবেক কাজ এগোচ্ছে। পাশাপাশি বইমেলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবর্ষ এবং সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষও পালিত হবে।

বন্ধ করুন