বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > বেঁচে উঠছে শিবপুরের ‘পাগলা গাছ’, আমফানে ছারখার সবুজ ফেরাতে কোমর বাঁধল কলকাতা
ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছটি ক্রেনের সাহায্যে খাড়া করা হয়েছে।
ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছটি ক্রেনের সাহায্যে খাড়া করা হয়েছে।

বেঁচে উঠছে শিবপুরের ‘পাগলা গাছ’, আমফানে ছারখার সবুজ ফেরাতে কোমর বাঁধল কলকাতা

  • প্রায় ৫০০টি গাছ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আরও গাছ বাঁচানোর চেষ্টা চলেছে।

ঘূর্ণিঝড় আমফানে উপড়ে যাওয়া গাছেদের বাঁচাতে কোমর বেঁধেছে কলকাতা। শহরের ইতিহাসে বৃহত্তম বৃক্ষ পুনর্রোপন প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে শিবপুর বট্যানিকাল গার্ডেনের সুবিখ্যাত বাওবাব গাছ এবং ম্যাড ট্রি-কে, যাদের দুজনেরই বয়স একশো পেরিয়েছে। 

গত ২০ মে ঘণ্টায় ১৩০ কিমি বেগে কলকাতার বুকে আছড়ে পড়ে আমফান। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লুটিয়ে পড়ে প্রায় ১৫ হাজার গাছ। এর ফলে লকডাউন উঠে গেলে শহরে দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবিদরা। হারিয়ে যাওয়া সবুজ ফিরিয়ে আনতে তাই উদ্যোগী হয়েছেন প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরাও। 

কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, ‘কলকাতায় এটাই বৃহত্তম গাছ প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ। আমরা প্রায় ৫০০টি গাছ চিহ্নিত করেছি যেগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আরও গাছ চিহ্নিত করার চেষ্টা চলেছে। এ ছাড়া ৫০ হাজারের বেশি চারাগাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গেলে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গেলে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত করতে রাজ্য দূষণ পরিষদের বিশেষজ্ঞদের, রাজ্য জীববৈচিত্র পর্ষদ, ভারতীয় বট্যানিকাল সার্ভে এবং একটি এনজিও-কে নিয়ে বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কোন কোন গাছ আবার লাগানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করবে কমিটি। 

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গেলে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে পড়ে যাওয়া গাছটি ক্রেনের সাহায্যে খাড়া করতে হবে, গাছ বসানোর জন্য পে লোডারের সাহায্যে বিশাল ও গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে, গাছের ডাল ছেঁটে ফেলতে হবে এবং এত কিছু ঠিঠাক উৎরে গেলে তবেই গাছকে ফের মাটিতে দাঁড় করানো যাবে। গাছ সোজা রাখতে আশপাশের খুঁটি ও অন্য গাছের সঙ্গে শক্ত ভাবে বাঁধতেও হবে। 

রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ভূপতিত বেশ কিছু গাছ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরে নতুন শাখা ও পাতা গজাতে শুরু করেছে।
রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ভূপতিত বেশ কিছু গাছ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরে নতুন শাখা ও পাতা গজাতে শুরু করেছে।

এতেই অবশ্য কাজ শেষ হবে না, জানিয়েছেন আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ্বিজ্ঞান উদ্যানের কিউরেটর এস এস হামিদ। তিনি জানিয়েছেন, ফের মাটিতে বসানোর পরে গাছটিকে চট দিয়ে মুড়ে দিতে হবে, যাতে সূর্যের তাপে অতিরিক্ত আর্দ্রতা হারিয়ে তার শরীর জলশূন্য না হয়ে পড়ে। নতুন শাখা বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সারও দিতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

সুখের কথা, এর মধ্যে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ভূপতিত বেশ কিছু গাছ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরে নতুন শাখা ও পাতা গজাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে এই এলাকায় ৫০টির বেশি পড়ে যাওয়া গাছ লাগানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও ৬০-৭০টি গাছকে দাঁড় করানো হবে। 

কেএমডিএ-র সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার এস নন্দী জানিয়েছেন, প্রতিটি গাছ ফের লাগাতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ পড়ছে। শিকড় অটুট থাকলে ৭০% গাছ বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বন্ধ করুন