বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া নার্স আপাতত স্থিতিশীল, কারণ খুঁজতে বিশেষ বোর্ড গঠন
এক চিকিৎসককে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন নার্স। কলকাতায়। ছবি সৌজন্য : এএনআই
এক চিকিৎসককে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন নার্স। কলকাতায়। ছবি সৌজন্য : এএনআই

ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া নার্স আপাতত স্থিতিশীল, কারণ খুঁজতে বিশেষ বোর্ড গঠন

  • রাজ্য জুড়ে এ পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আরও ১৩টি ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘‌অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোয়িং ইম্যুনাইজেশন’‌ বা এআইএফআই।

করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন কলকাতার বিসি রায় হাসপাতালের এক নার্স। শনিবার টিকাকরণের প্রথম দিনই অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তাঁকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তি হতে থাকে তাঁর। আর পরক্ষণেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ৩৫ বছরের ওই নার্স। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

রবিবার খোঁজ নিয়ে দেখা গেল যে আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন ওই নার্স। একইসঙ্গে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, টিকা নেওয়ার পর তাঁর জ্ঞান হারানোর কারণ যাচাই করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিক্যাল বোর্ডও তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক তথা স্বনামধন্য চিকিৎসক সংবাদ সংস্থা পিটিআই–কে জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা এখন ওই নার্সের বিভিন্ন শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছেন। এবং এই পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘‌‌ওই নার্সের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে সঠিকভাবে হয় তার জন্য আমরা বিশেষজ্ঞদের একটি বোর্ড গঠন করেছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ খুঁজে বের করব এবং তার সমাধান কীভাবে হবে তাও ঠিক করে ফেলব বলে আশা করছি। এখনও পর্যন্ত তিনি চিকিৎসায় ভাল সাড়া দিচ্ছেন।’‌

এর পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ শান্তনু ত্রিপাঠীর পরামর্শ নিচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এর আগে তিনি কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিসি রায় হাসপাতালের ওই নার্সের টিকা নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ার নেপথ্যে কোনও অন্তর্নিহিত কারণ আছে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য দফতরের ওই আধিকারিক বলেন, ‘‌এখনও পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখছেন। আমরা যা জানতে পেরেছি তা হল ওই মহিলা দীর্ঘদিনের হাঁপানির রোগী এবং বেশ কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে তিনি সংবেদনশীল।’‌

এখন কেমন আছেন ওই নার্স?‌ উত্তরে স্বাস্থ্য দফতরের ওই আধিকারিক তথা চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘‌আজ সকালে আমরা তাঁকে পরীক্ষা করে দেখলাম যে তাঁর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরামিতিগুলি স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর রক্তচাপ এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও স্বাভাবিক। আপাতত তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্ট থেকে সরানো হয়েছে। আমরা শীঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’‌

এদিকে, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য জুড়ে এ পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার আরও ১৩টি ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘‌অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোয়িং ইম্যুনাইজেশন’‌ বা এআইএফআই। যদিও ওই ১৩ জনের মধ্যে কেউই গুরুতরভাবে অসুস্থ হননি বলেই দাবি স্বাস্থ্য দফতরের।

এ ব্যাপারে ওই আধিকারিক বলেন, ‘‌এর মধ্যে সকলেই সামান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যেমন, রক্তচাপ বৃদ্ধি বা জ্বর জ্বর ভাব। প্রাথমিক চিকিৎসার পরই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার চিকিৎসকরা ওই টিকা–প্রাপকদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রেখেছেন। কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌ ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হওয়া ১৪ জনের মধ্যে দু’‌জন কলকাতার এবং তিনজন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা।

বন্ধ করুন