বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > স্ত্রী-শ্বাশুড়িকে হত্যার ছক বহু দিন ধরে সাজিয়েছিলেন সিএ, বলছে সুইসাইড নোট
তদন্তে নেমে পুলিশ খোঁজ করছে, কোথা থেকে পিস্তলটি জোগাড় করেছিলেন। (প্রতীকী ছবি)
তদন্তে নেমে পুলিশ খোঁজ করছে, কোথা থেকে পিস্তলটি জোগাড় করেছিলেন। (প্রতীকী ছবি)

স্ত্রী-শ্বাশুড়িকে হত্যার ছক বহু দিন ধরে সাজিয়েছিলেন সিএ, বলছে সুইসাইড নোট

  • পুলিশ খোঁজ করছে, কোথা থেকে পিস্তলটি অমিত জোগাড় করেছিলেন।

স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে গুলি করে খুন করার পরে কলকাতায় আত্মঘাতী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের ৬৭ পাতার দীর্ঘ সুইসাইড নোট উদ্ধার করল পুলিশ। বহু দিন ধরেই যে তিনি হত্যাকাণ্ডের ছক সাজাচ্ছিলেন, তা জানা গিয়েছে ওই নোট থেকে।

পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্ত্রী শিল্পীকে বেঙ্গালুরুতে খুন করে বিমান ধরে কলকাতায় পৌঁছন বছর বিয়াল্লিশের অমিত আগরওয়াল। বিমানবন্দর থেকে সটান ট্যাক্সি নিয়ে সোমবার পৌঁছে যান শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে শ্বাশুড়ি ললিতা ঢনঢনিয়াকে (৬৫) গুলি করে খুন করেন তিনি। শ্বশুর সুভাষ ঢনঢনিয়াকে নিশানা করে গুলি করলেও ফস্কে যায়। কোনও মতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন সুভাষ। এর পর নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন অমিত।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ও দুটি ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ৬৭ পাতার টাইপ করা সুইসাইড নোট, যদিও তার মধ্যে একটি পাতা হাতে লিখে সম্ভবত পরে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সুইসাইড নোট পড়ে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু কাল ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন অমিত। শ্বশুরবাড়ির সবাইকেই খুন করার ছক কষেছিলেন তিনি। এই কারণে শালাকেও কলকাতায় আসতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুরদুগ্রাম থেকে তিনি এসে পৌঁছননি বলেই বেঁচে গিয়েছেন। নোটটি পড়েই শিল্পী খুন হয়েছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে বেহ্গালুরুতে ফোন করে সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা।

স্ত্রী শিল্পীর সঙ্গে গত দুই বছর ধরে অমিতের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলেছে। তাঁদের ছেলে বাবার সঙ্গেই থাকে। রবিবার রাতে শিল্পীকে খুন করার পরে ছেলেকে সকালে তিনি বোঝান, তার মা কলকাতায় চলে গিয়েছেন। তাই ছেলেকে নিয়েই বিমানে ওঠেন অমিত।

বিমানবন্দরে এক পরিচিতের কাছে ছেলেকে জমা দিয়ে তাঁর দমদমের প্ল্যাটে নিয়ে যেতে বলে শ্বশুরবাড়ডির দিকে লরওনা দেন অমিত।

তদন্তে নেমে পুলিশ খোঁজ করছে, কোথা থেকে পিস্তলটি জোগাড় করেছিলেন। ট্যাক্সিচালক জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে কোথাও দাঁড়াননি অমিত। পিস্তলের উৎসের সন্ধানে তাই বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

বন্ধ করুন