করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপস্থিতি এবার কলকাতাতেও। মাস্ক পরে নজরদারি বন্দরে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপস্থিতি এবার কলকাতাতেও। মাস্ক পরে নজরদারি বন্দরে।

কলকাতার প্রথম Covid-19 রোগীকে নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন

দীর্ঘ পথে কোথাও পরীক্ষায় তাঁর দেহে জীবাণু সংক্রমণের হদিশ মেলেনি। ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে আরও বেশ কিছু বিষয়ে।

মঙ্গলবার আইডি হাসপাতালে ভরতি হয়েছেন শহরের প্রথম Covid-19 আক্রান্ত রোগী। ইংল্যান্ড থেকে কলকাতা পৌঁছানোর দীর্ঘ পথে কোথাও পরীক্ষায় তাঁর দেহে জীবাণু সংক্রমণের হদিশ মেলেনি। ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে আরও বেশ কিছু বিষয়ে।

অক্সফোর্ড ফেরত্ তরুণের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পরে তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাঁর বাড়ির সদস্য এবং গাড়ি চালককে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ মার্চ ইংল্যান্ডে এক পার্টিতে বছর আঠারোর ওই তরুণ তাঁর এক বান্ধবীর সঙ্গে নেচেছিলেন, যিনি Covid-19 এ আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, অক্সফোর্ড থেকেই বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়। সেই জন্য তরুণকে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করতেও বলা হয়। কিন্তু কোনও কারণে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন পরীক্ষা করা হয়নি।




আরও পড়ুন: কলকাতায় খোঁজ মিলল প্রথম করোনাভাইরাস রোগীর, আক্রান্ত বিলেত ফেরৎ তরুণ

কলকাতায় ফিরে আসার পরেও কয়েক দিন পরে গত সোমবার তিনি এম আর বাঙুর হাসপাতালে যান। সূত্রের খবর, শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা না দিলেও তাঁর নমুনা পরীক্ষার পরে করোনাভাইরাসের সন্ধান মেলে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আই ডি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি করা হয়। কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় পরিবারের সদস্য ও গাড়িচালককে। আর সেখানেই থেকে যাচ্ছে শঙ্কা।

প্রশ্ন উঠেছে, অক্সফোর্ড থেকে কলকাতা দীর্ঘ উড়ানপথে কোনও বিমানবন্দরের পরীক্ষায় কী কারণে তরুণের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েনি? পার্টি থেকে ফিরে আসার পরে থেকে নিয়ে ভারতের বিমান ধরার আগে কোনও কারণে নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ না পেলেও কলকাতায় ফিরে আসার পরেও কী কারণে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তাই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

সমস্যা হল, এই সময়কালে তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংস্পর্শে এসেছেন অগুনতি মানুষ, যাঁদের এবং যাঁদের পরিবার ও পরিচিতদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা, নমুনা পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা এবং ওই তরুণ যে সমস্ত স্থানে উপস্থিত ছিলেন, তা খুঁজে বের করে জীবাণুমুক্ত করা কঠিন কাজ। সেই চ্যালেঞ্জ কী ভাবে মোকাবিলা করতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, তার উপরই নির্ভর করছে শহরে Covid-19 সংক্রমণের হার।

বন্ধ করুন