বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > সিঁদুরখেলা ছাড়াই নিরঞ্জনের সাক্ষী মহানগরী, ২৯ তারিখের মধ্যে বিসর্জনের নির্দেশ
করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সব রকমের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।
করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সব রকমের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।

সিঁদুরখেলা ছাড়াই নিরঞ্জনের সাক্ষী মহানগরী, ২৯ তারিখের মধ্যে বিসর্জনের নির্দেশ

  • করোনা পরিস্থিতিতে সিঁদুরখেলা বা শোভাযাত্রা কোনওটাই হল না। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা সরাসরি চলে গেল ঘাটে। 

মন খারাপের শারদোৎসব শেষে আর এক মন খারাপের দশমী। কারণ এবার করোনা পরিস্থিতিতে সিঁদুরখেলা বা শোভাযাত্রা কোনটাই হল না। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা সরাসরি চলে গেল ঘাটে। মায়ের সামনে বাজল না ব্যান্ডপার্টি। প্রদীপ হাতে নিয়ে লাইনে দাঁড়াল না ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। করোনা পরিস্থিতিতে সব রকমের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। এবার প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে নির্ধারিত দিন ও সময় মেনেই, নির্দেশ পুলিশের।

পুজো কমিটিগুলিকে বিসর্জন সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, করোনা পরিস্থিতিতে পালটে গিয়েছে প্রতিমা বিসর্জনের পদ্ধতি। কলকাতা পুলিশের আওতায় ২৪টি মূল ঘাট–সহ মোট ৩০টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া যায়। মূল ঘাটগুলির মধ্যে রাজাবাগান, নাদিয়াল, গার্ডেনরিচ এলাকায় একটি করে, দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকায় তিনটি ও উত্তর বন্দর এলাকায় ১৮টিতে বিসর্জন দেওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে ছ’টি ছোট ঘাট, সেখানও দেওয়া যেতে পারে বিসর্জন।

হাইকোর্টের নির্দেশে এবার সিঁদুরখেলা নেই মণ্ডপে। নেই শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নিয়ে বেরোনো। বন্ধ ডিজে এবং মাইক। এই আবহেই সোমবার দেবীবরণের পর শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে, গঙ্গার ঘাটে শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। দুপুরের পর থেকে বিসর্জন শুরু হয়ে গেলেও কলকাতার ঘাটগুলিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ভিড়ও নেই তেমন। লালবাজার সূত্রে খবর, এই বছর প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনও শোভাযাত্রা করা চলবে না। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা লরি বা ট্রেলারে তুলতে হবে। সরাসরি তা নিয়ে যেতে হবে বিসর্জন ঘাটে।

জানা গিয়েছে, খুব কম সংখ্যক পুজো কমিটির সদস্য মালবাহী গাড়ির সঙ্গে বিসর্জন ঘাটে যেতে পারবেন। দশমীর দুপুর থেকেই প্রত্যেকটি ঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। বাড়ির পুজোগুলি দশমীর বিকেলের পর থেকেই বিসর্জন দেওয়া শুরু করেছে। এদিনই বিসর্জন হয় বেশ কিছু বারোয়ারি পুজো প্রতিমা। লালবাজারের এক আধিকারিক জানান, ৩০টি ঘাটেই মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত সংখ্যক ডিএমজি কর্মী ও ডুবুরিরা। প্রত্যেকটি ঘাটে থাকবে নৌকা।

বিসর্জনের সময় ঘাটে চার–পাঁচজনের বেশি কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নজরদারি চালাচ্ছে রিভার ট্রাফিক পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। স্পিডবোর্ডেও চলছে নজরদারি। প্রতিমা বিসর্জনে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে দুপুরে ঘাটগুলি পরিদর্শন করেন পুর ও নগরন্নোয়মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেন। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জন করতে হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

 

বন্ধ করুন