বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বিধানসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোটের দাবি জানাল বাম–কংগ্রেস
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবদুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী। ফাইল ছবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবদুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী। ফাইল ছবি

বিধানসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোটের দাবি জানাল বাম–কংগ্রেস

  • তাঁদের মূল বক্তব্য, বিধানসভা ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। কিন্তু এখনও বিধানসভা ভঙ্গ করা হয়নি। স্থগিত করা আছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা সরকার চাইলে অধ্যক্ষ ফের বিধানসভা অধিবেশন ডাকতেই পারেন।

‌বিধানসভাকে কেন এড়িয়ে যাচ্ছে রাজ্যের শাসকদল?‌ আস্থা ভোট ডেকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিক রাজ্য সরকার— বৃহস্পতিবার বছরের শেষ দিনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে একযোগে এই দাবি করল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস ও বাম শিবির। তাঁদের দাবি, যেভাবে লোকজন তৃণমূল ছাড়ছেন তাতে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এদিন বিধানসভায় যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেস ও সিপিএম। কংগ্রেসের তরফ থেকে আবদুল মান্নান ও সিপিএমের তরফ থেকে সুজন চক্রবর্তী তাঁদের দাবি পেশ করেন। তাঁদের মূল বক্তব্য, বিধানসভা ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। কিন্তু এখনও বিধানসভা ভঙ্গ করা হয়নি। স্থগিত করা আছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা সরকার চাইলে অধ্যক্ষ ফের বিধানসভা অধিবেশন ডাকতেই পারেন। তাঁদের দাবি, বিধানসভায় অধিবেশন ডাকা হোক এবং আস্থা ভোট নেওয়া হোক।

কিন্তু আস্থা ভোটের দাবি কেন?‌ বাম ও কংগ্রেস প্রতিনিধিদের কথায়, সরকারের উচিত আস্থা ভোটের ব্যবস্থা করা। কারণ, দলের অন্দরে ভাঙন ধরায় দলের প্রতিই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কোনও আস্থা নেই। দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন তৃণমূলের লোকজন।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলছিলেন, ‘‌তৃণমূল দল থেকে অনেকেই চলে যাচ্ছেন। কতজন গেছেন জানি না। কেউ বলছেন ১৫০ জন আসবেন, কেউ বলছেন ১০০ জনের মতো আসবেন। মন্ত্রীরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। পরে আরও মন্ত্রী নাকি দল ছেড়ে চলে যাবে। আবার কাউকে বলতে হচ্ছে আমি তৃণমূল ছাড়ছি না। এ অবস্থায় মানুষ একটা ধাঁধার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। সরকার কি তার আস্থা হারিয়ে ফেলেছে?‌’‌ তাঁর কথায়,‌ ‘‌আজ আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি, তৃণমূলে যদি ব্যাপকহারে দলত্যাগ না হয় তা হলে আপনি বিধানসভা অধিবেশন ডেকে আস্থাভোট নিয়ে প্রমাণ করে দিন যে দলের ওপর আস্থা আছে।’‌

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন প্রশ্ন করেন, ‘‌সরকার কি বিধানসভার সম্মুখীন হতে ভয় পাচ্ছে?‌ সরকারের এমন অবস্থা?‌’‌ তাঁর দাবি, ‘‌এ কথা আমরা বলিনি। শাসকদলের বিধায়কদের থেকেই এ কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁরাও বুঝতে পারছেন। তাঁরাও বলছেন বিধানসভায় অধিবেশন ডাকা হোক। শাসকদলের বিধায়করাই প্রশ্ন করছেন যে কেন এতদিন অধিবেশন ডাকা হচ্ছে না?‌ তাঁরা নিজেদের বিধানসভা এলাকার কোনও কথাও জানাতে পারছেন না।’‌

সুজনের প্রশ্ন, ‘‌তা হলে কি মুখ্যমন্ত্রী শঙ্কায় আছেন যে তাঁর কাছে গরিষ্ঠতা প্রমাণে সংখ্যা নেই?‌’‌ তিনি এদিন বলেন, ‘‌চাকরির নামে, কাজের নামে, স্বাস্থ্যসাথীর নামে, দুয়ারে সরকারের নামে, পাড়ায় সমাধানের নামে যে প্রতারণা করা হচ্ছে তা আমরা মানতে পারছি না। তাই আমরা আবার চিঠি দিলাম।’‌ বাম–কংগ্রেসের দাবির জবাবে পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা তাপস রায় বলেন, ‘‌সংসদীয় গণতন্ত্রে এ সব দাবি করা স্বাভাবিক। কিন্তু বাম–কংগ্রেসের জোটের ওপর মানুষের কতটা আস্থা আছে সেটাও ওদের পরখ করে নেওয়া উচিত।’‌‌

এদিকে, একাধিক রাজ্য যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় নেই সেখানে বিধানসভা অধিবেশন ডেকে কেন্দ্রের কৃষি আইন যাতে সেই রাজ্যে চালু না করা হয় তার জন্য আইনকে হাতিয়ার করে রক্ষাকবচ তৈরি করছে। সে রকম কোনও উদ্যোগ যদি এই রাজ্যে নেওয়া যায় তার জন্য বিধানসভা অধিবেশন ডাকাটা জরুরি বলেই মনে করছেন বিরোধীরা। তাই বিধানসভা অধিবেশনের জন্য দাবি আরও প্রবল হয়ে উঠেছে এখন।

বন্ধ করুন