বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘বণ্টনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে চাউল পাইয়াছি’, মুচলেকা দিতে হবে রেশন ডিলারদের
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

‘বণ্টনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে চাউল পাইয়াছি’, মুচলেকা দিতে হবে রেশন ডিলারদের

  • খাদ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যে পুরুলিয়া জেলার ১,০০০ জন রেশন ডিলারকে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে।’

রেশনে বণ্টন করার জন্য খাদ্যসামগ্রী তোলার পর এবার থেকে লিখিত স্বীকারোক্তি দিতে হবে রেশন ডিলারদের। রাজ্য খাদ্য দফতরের তরফে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাল তোলার সময় রেশন ডিলারদের মুচলেকা দিতে হবে, সঠিক পরিমাণে গুণমানযুক্ত চাল পেয়েছেন তিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। জানা গিয়েছে খাদ্য দফরের এই উদ্যোগ শুরু হবে পুরুলিয়া জেলা থেকে। যেখানে বিজেপির দাপটে প্রায় সাফ হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। 

খাদ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যে পুরুলিয়া জেলার ১,০০০ জন রেশন ডিলারকে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে।’ খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে গোটা পশ্চিমবঙ্গে শুরু হবে। 

খাদ্যমন্ত্রী জানান, ‘ডিলাররা যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাল মানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য পান সেজন্য আমরা এই ব্যবস্থা করেছি। আপাতত পুরুলিয়া এই পদ্ধতি শুরু হবে। বীরভূম, বাঁকুড়া-সহ গোটা রাজ্যে পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োগ করা হবে এই বিধি।’

মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর কোনও রেশন ডিলার যদি পর্যাপ্ত রেশন পাইনি বলে দাবি করে, তাহলে তা আর মানবে না সরকার।’

সম্প্রতি পুরুলিয়ার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ধান ক্রয় ও বিতরণের জন্য চাল মজুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খাদ্য দফতরের এর আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যের ৯ কোটি মানুষকে খাওয়াতে মাসে ৫ লক্ষ মেট্রিকটন চাল লাগে সরকারের। লকডাউন শুরুর পর থেকে প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্য যোজনায় ৫ কেজি করে চাল বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যের ৭.৫ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ICDS প্রকল্পের অধীনে আরও ২ কেজি করে চাল বাড়িতে পৌঁছে দেবে রাজ্য সরকার। 

সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত, কোন ডিলারের কত খাদ্যসামগ্রী প্রাপ্য, আর কতটা সে তুলে নিয়ে গেল তা কি লেখা থাকে না সরকারের খাতায়? তাহলে ফের রেশন ডিলারকে দিয়ে লেখানো কেন? 

দ্বিতীয়ত, এমনিতেই নানা চাপে জর্জরিত রেশন ডিলারদের দিয়ে মুচলেকায় সই করিয়ে নেওয়া কি অসম্ভব? 

তৃতীয়ত, রাজ্য জুড়ে রেশন ডিলারদের বখরা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রেশন ডিলাররাই। কাঠগড়ায় তৃণমূলের ছোট-বড় নেতারা। এই পরিস্থিতিতে মুচলেকা দিয়ে চাল নিয়ে রওনা দেওয়ার পর তৃণমূল নেতারা চালের বস্তা নিয়ে গেলে তার দায় নেবে কে?

 

বন্ধ করুন