দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি
দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি

'বাকিদের জীবন বিপন্ন করে একটি সম্প্রদায়ের ভোটের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তেল মারছেন'

  • এদিন তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় দল যেখানে যেখানে যেতে পারে সেখানে আগে থেকেই গিয়ে হাজির হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি নিয়ে, মাইক নিয়ে গিয়ে বলছেন, আপনারা দয়া করে বাড়িতে ঢুকে যান।

কেন্দ্রীয় দলের সফরের মধ্যেই কলকাতার রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গল ও বুধবার পর পর ২ দিন পথে নামতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে চরম কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবার বিধাননগরে নিজের বাসভবনের সামনে এই নিয়ে মমতাকে একহাত নেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে নবান্ন থেকে বেরিয়ে পার্ক সার্কাস থেকে রাজাবাজার, মধ্য কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা চষে বেড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়িতে বসেই লাউড স্পিকারে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থাকার গুরুত্ব বোঝান তিনি। সঙ্গে সাধারণ মানুষের অসুবিধার জন্য ক্ষমাও চান। যে কোনও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলেন পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে। বুধবারও রাস্তায় বেরোতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। এদিন তাঁর গন্তব্য ছিল শহরের আরেক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা খিদিরপুর। এর পর বালিগঞ্জেও যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই পথে নামাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দিলীপবাবু।

এদিন তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় দল যেখানে যেখানে যেতে পারে সেখানে আগে থেকেই গিয়ে হাজির হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি নিয়ে, মাইক নিয়ে গিয়ে বলছেন, আপনারা দয়া করে বাড়িতে ঢুকে যান। তিনি আবার সেসব জায়গার লোকের কাছে বাড়িতে থাকতে বাধ্য করার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।‘

দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, ‘কেন ক্ষমা চাইছেন উনি? যারা লকডাউন মানেনি নিয়ম মানেনি তাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাইতে পারেন, যারা আমাদের মতো, লক্ষলক্ষ কোটি কোটি মানুষ বাড়ির মধ্যে বন্দি হয়ে আছেন তাদের কাছে ক্ষমা চাইছেন না আপনি? তাদের জন্য আপনার কষ্ট হয় না যারা বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে না পুলিশের লাঠি খাচ্ছে। আর যারা নিয়ম মানছে না, গাড়ি করে বাইকে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের কাছে ক্ষমা চাইছেন? এখানেও রাজনীতি করতে চাইছেন একটি সম্প্রদায়কে নিয়ে? বাকিদের জীবন বিপন্ন করে একটি সম্প্রদায়ের ভোটের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তেল মারছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি।‘

বলে রাখি, মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকাকে রেড জোন বলে চিহ্নিত করে সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। সেখানে লকডাউন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতেও কর্ণপাত করেনি রাজ্য সরকার।



বন্ধ করুন