মমতা ৬৫: বছরভর প্রশাসক ও প্রতিবাদী ভাবমূর্তির লাগাতার সংঘাত

  • পঁয়ষট্টিতে পা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধারে প্রশাসক ও প্রতিবাদীর অনবদ্য সংমিশ্রণ ঘটেছে তাঁর ভাবমূর্তিতে। দেখে নেওয়া যাক ব্যতিক্রমী নেত্রীর গত একবছরের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলি।
রবিবার, ৫ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন দলমত নির্বিশেষে দেশনেতারা। তালিকায় নাম রয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি থেকে শুরু করে নুসরত জাহান, মিমি চক্রবর্তী-সহ তৃণমূল নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। শুভেচ্ছা জানালেন অসংখ্য সাধারণ নাগরিকও।
1/12রবিবার, ৫ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন দলমত নির্বিশেষে দেশনেতারা। তালিকায় নাম রয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি থেকে শুরু করে নুসরত জাহান, মিমি চক্রবর্তী-সহ তৃণমূল নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। শুভেচ্ছা জানালেন অসংখ্য সাধারণ নাগরিকও।
গত এক বছরে প্রতিবাদী কণ্ঠের জোরে এবং কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে বহু বার সংবাদের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনিই ছিলেন বিরোধী জোটের প্রধান মুখ। সেই সময় তিনি এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ ‘।
2/12গত এক বছরে প্রতিবাদী কণ্ঠের জোরে এবং কেন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে বহু বার সংবাদের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনিই ছিলেন বিরোধী জোটের প্রধান মুখ। সেই সময় তিনি এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ ‘।
লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে মমতার ডাকে কলকাতার ব্রিগেডে বিশাল জনসভার আয়োজন হয়। বিরোধী জোট গড়ার লক্ষ্যে সমাবেশে উপস্থিত হন দেশের প্রথম সারির বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ‘দ্য ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’-এর মঞ্চে দেখা যায় সপা নেতা খিলেশ যাদব, ডিএমকে প্রধান এম কে স্তালিন, প্রাক্তন বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি, লোকতান্ত্রিক জনতা দলের প্রধান শরদ যাদব, এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব প্রমুখকে। এর আগে বিভিন্ন নেতার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সারেন মমতা।
3/12লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে মমতার ডাকে কলকাতার ব্রিগেডে বিশাল জনসভার আয়োজন হয়। বিরোধী জোট গড়ার লক্ষ্যে সমাবেশে উপস্থিত হন দেশের প্রথম সারির বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ‘দ্য ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’-এর মঞ্চে দেখা যায় সপা নেতা খিলেশ যাদব, ডিএমকে প্রধান এম কে স্তালিন, প্রাক্তন বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি, লোকতান্ত্রিক জনতা দলের প্রধান শরদ যাদব, এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব প্রমুখকে। এর আগে বিভিন্ন নেতার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সারেন মমতা।
রাজ্যের সমস্ত বুথকে সংবেদনশীল ঘোষণা করতে বিজেপির দাবির তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অহেতুক পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে স্পর্শকাতরতা দেখাচ্ছে বিজেপি, এই অভিযোগ জানান তিনি। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকে শান্তিপূর্ণ রাজ্য বলেও জানান তিনি।
4/12রাজ্যের সমস্ত বুথকে সংবেদনশীল ঘোষণা করতে বিজেপির দাবির তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অহেতুক পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে স্পর্শকাতরতা দেখাচ্ছে বিজেপি, এই অভিযোগ জানান তিনি। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকে শান্তিপূর্ণ রাজ্য বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে মমতার সৃষ্টি ‘বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁর ডাকে সাড়া দেয় দেশের বিরোধী দলগুলি। তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্যে ১৮টি আসন পেয়ে সেই উদ্যোগে বাধ সাধে বিজেপি। ২৫ মে লির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা ঘোষণা করেন মমতা। তবে শেষ পর্যন্ত দলের নেতাদের অনুরোধে তিনি এই পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকেন।
5/12নির্বাচনী প্রচারে মমতার সৃষ্টি ‘বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁর ডাকে সাড়া দেয় দেশের বিরোধী দলগুলি। তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্যে ১৮টি আসন পেয়ে সেই উদ্যোগে বাধ সাধে বিজেপি। ২৫ মে লির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা ঘোষণা করেন মমতা। তবে শেষ পর্যন্ত দলের নেতাদের অনুরোধে তিনি এই পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকেন।
জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা হলে তা সম্পূর্ণ দূরদর্শিতাহীন বলে মন্তব্য করেন মমতা। বিশেষ করে সেস এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দামের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ফলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন নেত্রী।
6/12জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা হলে তা সম্পূর্ণ দূরদর্শিতাহীন বলে মন্তব্য করেন মমতা। বিশেষ করে সেস এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দামের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ফলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন নেত্রী।
৫ অগস্ট সংসদে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফের কেন্দ্র-বিরোধী জোট আন্দোলন নতুন দিশা পেতে শুরু করে।
7/12৫ অগস্ট সংসদে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফের কেন্দ্র-বিরোধী জোট আন্দোলন নতুন দিশা পেতে শুরু করে।
অগস্টের শেষ থেকেই সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সংগঠনে পথে নামেন মমতা। লোকসভা পূর্ববর্তী পর্বের মতোই এবারও বিরোধী ঐক্যের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও বিরোধীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট সত্ত্বেও লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে পাশ হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন।
8/12অগস্টের শেষ থেকেই সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সংগঠনে পথে নামেন মমতা। লোকসভা পূর্ববর্তী পর্বের মতোই এবারও বিরোধী ঐক্যের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও বিরোধীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট সত্ত্বেও লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে পাশ হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন।
আইন পাশ হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালিয়ে যান মমতা। পশ্চিমবঙ্গে ওই আইন কার্যকর করা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা করেন। একই ভাবে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি চালু করা থেকে রাজ্যের বিরত থাকার কথাও একাধিক বার প্রকাশ্যে জানান তিনি। তাঁর তীব্র সমালোচনার নিশানা হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
9/12আইন পাশ হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালিয়ে যান মমতা। পশ্চিমবঙ্গে ওই আইন কার্যকর করা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা করেন। একই ভাবে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি চালু করা থেকে রাজ্যের বিরত থাকার কথাও একাধিক বার প্রকাশ্যে জানান তিনি। তাঁর তীব্র সমালোচনার নিশানা হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সিএএ ও এনআরসি বিরোধী প্রচারে আবার নতুন স্লোগানের জন্ম দেন মমতা। কলকাতার এক জনসভায় মঞ্চ থেকে মমতা ডাক দেন ‘ক্যা (CAA) ক্যা (CAA) ছিঃ ছিঃ’। এই স্লোগান একদিকে যেমন বিরোধী বিক্ষোভে নতুন গতি আনে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিত্তিতে ট্রোলের শিকার হন নেত্রী। তাঁকে নিয়ে পোস্ট হতে থাকে অসংখ্য মিম। যদিও সে সবে আদৌ মমতার আন্দোলন ধাক্কা খায়নি।
10/12সিএএ ও এনআরসি বিরোধী প্রচারে আবার নতুন স্লোগানের জন্ম দেন মমতা। কলকাতার এক জনসভায় মঞ্চ থেকে মমতা ডাক দেন ‘ক্যা (CAA) ক্যা (CAA) ছিঃ ছিঃ’। এই স্লোগান একদিকে যেমন বিরোধী বিক্ষোভে নতুন গতি আনে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিত্তিতে ট্রোলের শিকার হন নেত্রী। তাঁকে নিয়ে পোস্ট হতে থাকে অসংখ্য মিম। যদিও সে সবে আদৌ মমতার আন্দোলন ধাক্কা খায়নি।
প্রতিবাদী চরিত্রের উত্তাপে কিন্তু এতটুুক ম্লান হয়নি প্রশাসক মমতার ভাবমূর্তি। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যানমূলক প্রকল্পের মতো সম্প্রতি গৃহহীন বস্তিবাসীর জন্য ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের অধীনে এর মধ্যেই কেএমডিএ ও কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে বস্তিবাসীর জন্য আবাসন তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বস্তিতে পাকা রাস্তা, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, শৌচাগারের মানোন্নয়ন, পর্যাপ্ত পানীয় জল, আলোর ব্যবস্থা করতেও কাজ শুরু হয়েছে।
11/12প্রতিবাদী চরিত্রের উত্তাপে কিন্তু এতটুুক ম্লান হয়নি প্রশাসক মমতার ভাবমূর্তি। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যানমূলক প্রকল্পের মতো সম্প্রতি গৃহহীন বস্তিবাসীর জন্য ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের অধীনে এর মধ্যেই কেএমডিএ ও কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে বস্তিবাসীর জন্য আবাসন তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বস্তিতে পাকা রাস্তা, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, শৌচাগারের মানোন্নয়ন, পর্যাপ্ত পানীয় জল, আলোর ব্যবস্থা করতেও কাজ শুরু হয়েছে।
জাতীয় থেকে রাজ্যস্তর, রাজনীতির আঙিনায় যে কোনও প্রেক্ষিতে মমতার প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নাতীত। বাংলা তথা ভারতীয় রাজনীতির এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে তিনি সফল। রাজনীতির চৌহদ্দি ছাপিয়ে কাব্যচর্চা, চিত্রাঙ্কন এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রা যোগ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবু সব কিছু ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে চির-প্রতিবাদী হিসেবেই যেন আসন পাকা হয়েছে। জন্মদিনে তাঁর জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।
12/12জাতীয় থেকে রাজ্যস্তর, রাজনীতির আঙিনায় যে কোনও প্রেক্ষিতে মমতার প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নাতীত। বাংলা তথা ভারতীয় রাজনীতির এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে তিনি সফল। রাজনীতির চৌহদ্দি ছাপিয়ে কাব্যচর্চা, চিত্রাঙ্কন এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রা যোগ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবু সব কিছু ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে চির-প্রতিবাদী হিসেবেই যেন আসন পাকা হয়েছে। জন্মদিনে তাঁর জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা।
অন্য গ্যালারিগুলি