বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে নতুন রক্তেই ভরসা রাখলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে নতুন রক্তেই ভরসা রাখলেন মমতা

  • রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনে ফল আশানুরূপ না-হওয়ায় জেলায় জেলায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন বহু নেতা।

তরতাজা রক্ত নিয়ে তরতরিয়ে বাড়ছে বিজেপি। ইতিমধ্যে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়েছে তারা। এবার নজর ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন। আর সেজন্য রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব তো বটেই, কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই পরিস্তিতিতে ভোট বৈতরণী পেরোতে তরুণদের ওপরেই আস্থা রাখলেন মমতা। সঙ্গে বদলে ফেললেন তৃণমূলনেত্রীর অন্যতম মাথাব্যথা জঙ্গলমহলের সংগঠন। 

বৃহস্পতিবার দলের সাংগঠনিক বৈঠকে জঙ্গলমহলের সমস্ত জেলার সভাপতি বদল করেছেন মমতা। লোকসভা নির্বাচনে গোটা এলাকায় ফুটেছিল পদ্ম। তার পর থেকে জঙ্গলমহলে শুকাচ্ছে ঘাসফুল। মাঝে নিজে হাতে জঙ্গলমহলের সংগঠনে প্রাণসঞ্চারের চেষ্টা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু লাভ হয়নি। তাই গোটা জঙ্গলমহলের সংগঠন বদলে ফেললেন তৃণমূলনেত্রী।

পুরুলিয়ায় শান্তিরাম মাহাতোর বদলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুরুপদ টুডুকে।

বাঁকুড়ায় আগে থেকেই কার্যকরী সভাপতির পদে ছিলেন শ্যামল সাঁতরা। শুভাশিস বটব্যালকে সরিয়ে তাঁর হাতেই জেলার দায়িত্ব তুলে দিলেন মমতা। এই জেলাতেও লোকসভা নির্বাচনের ২টি আসনের ২টিই জিতে নিয়েছিল বিজেপি। 

ঝাড়গ্রামেও লোকসভা নির্বাচনে হার হয়েছে তৃণমূলের। তার পর থেকে সেখানে তৃণমূলের সংগঠনে ধস নেমেছে। অনেক জায়গায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন তৃণমূলকর্মীরা। সেখানে বীরবাহা সোরেনকে সরিয়ে দিয়েছেন মমতা।  তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী দুলাল মুর্মুকে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরে দল পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে রয়েচেন শিউলি সাহা, মানস ভুঁইয়ার মতো নেতারা। 

এছাড়া নদিয়ায় ২টি সাংগঠিনক জেলার বিলয় ঘটিয়ে মহুয়া মৈত্রকে দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। কোচবিহারে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ নেতা পার্থপ্রতীম রায়। এতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল থামে কি না তা দেখার। হাওড়ায় সংগঠনে নতুন প্রাণ সঞ্চারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীরতন শুক্লকে। 

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনে ফল আশানুরূপ না-হওয়ায় জেলায় জেলায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন বহু নেতা। এর জেরে আরও দ্রুত বাড়ছে বিজেপি। তাই প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে নবীনদের জেলা সভাপতির পদে বসালেন মমতা। দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির কথা মাথায় রেখেও তরুণদের প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে প্রবীণদের বার্তা দিলেন, পদ আঁকড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা চলবে না। 

 

বন্ধ করুন