বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > SSC-র চাকরিপ্রার্থীদের আদালতের বাইরে সেটিং করার প্রস্তাব মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

SSC-র চাকরিপ্রার্থীদের আদালতের বাইরে সেটিং করার প্রস্তাব মমতার

  • মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব, ‘এটুকু আমি বলতে পারি, জাস্টিস যারা পায়নি। জাস্টিস তারা আমাদের থেকেই পাবে। যদি মনে করেন কেউ পায়নি। তবে পলিটিক্যাল কারণে নয়। কেউ কেউ হয়ে গেছে পলিটিক্যাল কারণে আমিও খাব না তুইও খাবি না’।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলাকারীদের ফের আদালতের বাইরে মিটমাটের প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় ল্যাজে গোবরে হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন, তখনকার শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছিলাম, এদের কয়েকজনের চাকরি করে দিন। তবে এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম মুখে নেননি মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার শিক্ষারত্ন প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকটা ছেলে মেয়ে বসে ছিল রাস্তায়। আমার সাথে দেখা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম এদের কয়েকজনকে করে দিন। তখনকার শিক্ষামন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, এদের নম্বর পারমিট করছে না। আমার দয়ামায়া বেশি। আমি বলেছিলাম, দিন না, করে দিন, বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়ে, কী আর হবে? আমি কিন্তু বলেছিলাম’।

এর পরই আন্দোলনরত মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীদের মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব, ‘এটুকু আমি বলতে পারি, জাস্টিস যারা পায়নি। জাস্টিস তারা আমাদের থেকেই পাবে। যদি মনে করেন কেউ পায়নি। তবে পলিটিক্যাল কারণে নয়। কেউ কেউ হয়ে গেছে পলিটিক্যাল কারণে আমিও খাব না তুইও খাবি না’।

ভুল সংশোধনের সুযোগ নিয়ে এরকম কোনও রায়ের কথা মনে নেই: অশোক গঙ্গোপাধ্যায়

এমনকী মামলাকারীদের কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, ‘৮৯ হাজার ছেলেমেয়ের চাকরি প্রসেস করতে টাইম লাগে। সেই প্রেসটা যদি ৩ মাসে করা যেত এখন ১ বছর লাগবে। মানে চাকরিটা দেওয়া তো পিছিয়ে গেল। এখন করতে গেলে বারবার ভাববে, কোনটা করব, এটা না ওটা। এটা করে করে চাকরির স্কোপটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি চাকরি দিতে চাই। আর কেউ কেউ চাকরি বন্ধ করার জন্য, মানুষ না খেতে পেলে ৫ টাকা তার পকেটে দিয়ে আসে না। আর PIL করার নাম করে জীবনটাকেই PIL করে দিয়েছে। আপনি যা ইচ্ছা করুন PIL হয়ে যাচ্ছে। একটা পিল খেয়ে নিচ্ছে’।

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘কী বলতে চাইছেন উনি। আমরা যারা আদালতে নিজেদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রাপ্য অধিকারের জন্য লড়ছি তারা ওনার দুর্নীতিতে যোগদান করি? এভাবে চাকরিপ্রার্থীদের আইনের পথ ছেড়ে বিপথে যেতে প্ররোচনা দিচ্ছেন উনি’। তাঁর সংযোজন, ‘এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আইন আদালতে ওনার ভরসা নেই। উনি দুর্নীতি করতে চান। আর তাই আদালত থেকে মানুষকে দূরে সরাতে চাইছেন।’

 

বন্ধ করুন