বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > Shahid Diwas: ‘‌ওইদিন আমি ঘটনাচক্রে বেঁচে গিয়েছিলাম’‌, জাগো বাংলায় লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (PTI)

Shahid Diwas: ‘‌ওইদিন আমি ঘটনাচক্রে বেঁচে গিয়েছিলাম’‌, জাগো বাংলায় লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

  • এখন যারা বড় বড় কথা বলছে, তারাও মনে রাখুক, ২১ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যারা গিয়েছিল, তারা অপরাধী ছিল না। তারা ছিল রাজনৈতিক কর্মী, গরিব সাধারণ মানুষ। এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করা হল। আমি ধন্যবাদ দিই আমাদের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষকে।

আজ একুশে জুলাই। তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক শহিদ সমাবেশ। এই সমাবেশ উপলক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকায় বিশেষ কলম লিখেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা এখন রাজ্য–রাজনীতির আঙিনায় চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে। সেখানে শহিদ দিবসের তাৎপর্য থেকে শুরু করে বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত সবই তুলে ধরেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ঠিক কী লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?‌ আজ, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মুখপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘‌২১ জুলাই আমার কাছে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই আমাদের অহিংস, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চক্রান্ত চালিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার এবং সিপিআইএম। আন্দোলনের উপর অত্যাচারের এই দিনটি বাংলা তথা দেশের চিরকালীন ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেদিন কোনও অপরাধ ছাড়াই আমার সহকর্মীদের উপর তাণ্ডব করেছিল পুলিশ আর সিপিআইএমের গুন্ডারা। প্রশাসনকে জানিয়ে, অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি হয়েছিল। তারপরেও ওরা প্রাণঘাতী আক্রমণ করেছিল, তা গণতন্ত্রের লজ্জা। চিরকালীন ইতিহাসের কালো দিন। আমি মনে করি ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই–সহ যতগুলি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিআইএম বর্বরোচিত আক্রমণ করেছে, কতজনকে শহিদ করেছে, বাংলার মানুষের তা মনে রাখা উচিত। এখন যারা বড় বড় কথা বলছে, তারাও মনে রাখুক, ২১ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যারা গিয়েছিল, তারা অপরাধী ছিল না। তারা ছিল রাজনৈতিক কর্মী, গরিব সাধারণ মানুষ। এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করা হল। আমি ধন্যবাদ দিই আমাদের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষকে, সেদিন আহতদের প্রাণ বাঁচাতে রক্ত দেবার জন্য তাঁরা লাইন দিয়েছিলেন।’‌

তাঁকে খুনের প্রসঙ্গে কী লিখেছেন?‌ এই বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‌ওইদিন আমি ঘটনাচক্রে বেঁচে গিয়েছিলাম। আমাকে খুনের চেষ্টা করেছিল ওরা। ওদের সংগঠিত ও পরিকল্পিত হামলার মধ্যে টার্গেট করেছিল আমাকে। কাঁদানে গ্যাসের শেল পায়ের সামনে। শাড়িতে প্রায় আগুন লেগে যাচ্ছিল। পুলিশ আর সিপিআইএম ক্যাডাররা আমাকে ঘিরে ধরে আঘাত করেছে লাগাতার। একটা সময়ে গুলিও করতে যাচ্ছিল। আমার পিএস ও মাইতিদা, তিনিও পুলিশকর্মী, পালটা রিভলবার তুলে আমাকে বাঁচিয়েছিলেন। না হলে আমাকে গুলি করে মারত সেদিনই। আমি ভয়াবহ চোট পেলাম। রাজপথে রক্তের হোলি খেলল সিপিআইএম।’‌

কী নিয়ে ছিল আন্দোলন?‌ সেদিনের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেছেন তাঁর লেখনীতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘‌১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের আগে ছাপ্পা ভোট, ভুয়ো ভোট হতো। আমরা সেদিন বলেছিলাম– ‘নো আই কার্ড, নো ভোট’। সচিত্র পরিচয়পত্র চাই। দেশে প্রথম আমরাই আওয়াজ তুলেছিলাম। শেষে নির্বাচন কমিশন এটা মেনে নিয়েছিল। ২১ জুলাই আমাদের শহিদদের প্রাণের বিনিময়ে এল ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র। আর ২১ জুলাই হয়ে থাকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নিরপরাধ রাজনৈতিক কর্মীদের উপর আক্রমণের এক কালো দিন।’‌ ২১ জুলাই তাই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শহিদ তর্পণের দিন। আর তার মধ্যেই আমরা শপথ নেব— বাংলার সুরক্ষা, বাংলার উন্নয়ন, বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্তের মোকাবিলার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বন্ধ করুন