বাঁ দিকে হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পেজ থেকে শেয়ার করা ভিডিয়োর স্ক্রিনশট। ডান দিকে মঙ্গলবার নবান্নে মমতা।
বাঁ দিকে হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পেজ থেকে শেয়ার করা ভিডিয়োর স্ক্রিনশট। ডান দিকে মঙ্গলবার নবান্নে মমতা।

কাদের উসকানিতে হচ্ছে দাঙ্গা? নজরদারি করতে জেলায় জেলায় নোডাল অফিসার বসালেন মমতা

  • 'ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্ররোচনা দিয়ে দাঙ্গা কারা বাধাচ্ছে তা জানতে আমি সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে বলেছি।’

স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। মঙ্গলবার এই নিয়ে নাম না করে নবান্ন থেকে বিজেপির সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এসবের মধ্যেই বুধবার নবান্নে অভিনব এক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, কে দাঙ্গা বাধাচ্ছে তা জানতে জেলায় জেলায় নিয়োগ করা হবে নোডাল অফিসার। শুধু অভিযুক্তদের চিহ্নিত করাই নয়, তাদের শাস্তির ব্যবস্থাও করবেন ওই আধিকারিক। 

বুধবার নবান্নে মমতা বলেন, ‘রমজান চলছে। আর তার মধ্যেই কিছু লোক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টায় রয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দল দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্ররোচনা দিয়ে দাঙ্গা কারা বাধাচ্ছে তা জানতে আমি সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে বলেছি।’

মঙ্গলবার নবান্নে বসেই মমতা বলেছিলেন, ‘লকডাউন ভেঙে যারা দাঙ্গা করেছে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিভাজন করতে চাইছে। করোনার সময় এই ভাগাভাগির খেলা অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ।’

গত চার দিন ধরে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ও হুগলির তেলেনিপাড়ার সংঘর্ষ নিয়ে লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। ঘটনায় এখনো কেউ হতাহত না হলেও বেশ কিছু বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে জোরদার প্রচারে নেমেছে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা। 

মঙ্গলবার এই নিয়ে অভিযোগ জানাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে যায় বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির জাতীয় কার্যকারী সমিতির সদস্য মুকুল রায়, হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। বুধবার লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং হুগলির জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাওয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁদের জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন জেলাশাসক। এর পর জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। 

বিজেপির অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে লকডাউন মানছেন না ‘বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজন’। তার প্রতিবাদ করলে আক্রামণের মুখে পড়তে হচ্ছে হিন্দুদের। পুলিশ দর্শকের ভুমিকায় রয়েছে।

 

বন্ধ করুন