বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > অভিষেকের ডাকা জরুরি বৈঠকে গরহাজির মৌসম বেনজির নুর ও সাবিত্রী মিত্র, নতুন জল্পনা!
রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর ও প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র‌। ফাইল ছবি
রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর ও প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র‌। ফাইল ছবি

অভিষেকের ডাকা জরুরি বৈঠকে গরহাজির মৌসম বেনজির নুর ও সাবিত্রী মিত্র, নতুন জল্পনা!

  • সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এদিনের জরুরি বৈঠকে ছিলেন মালদা জেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মণ্ডল, প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ও জেলার দুই কো–অর্ডিনেটর দুলালচন্দ্র সরকার ও অম্লান ভাদুড়ি।

শনিবার জরুরি ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে গরহাজির থাকলেন মালদা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির তিনজন। উল্লেখযোগ্যভাবে এদিনের বৈঠকে ছিলেন না জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র ও জেলা কো–অর্ডিনেটর মানব বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহের তিন নেতার অনুপস্থিত থাকা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হলেও মৌসম বেনজির নুরের আপ্তসহায়ক তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত শর্মা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে আচমকা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় এদিনের বৈঠকে হাজির থাকতে পারেননি মৌসম।

মালদহের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন মৌসম বেনজির নুর। ২০১৯–এর লোকসভা ভোটে মালদা উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী হন তিনি। যদিও তিনি বিজেপি–র কাছে হেরে যান। তার পরেও তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে দল। মৌসম ছাড়াও বৈঠকে সাবিত্রী মিত্র ও মানব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জানানো হয়েছে, পারিবারিক কারণ ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁরা হাজির থাকতে পারেননি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, শুভেন্দু অধিকারী যদি কংগ্রেসে যোগ দান করেন তবে মৌসম ও সাবিত্রীদেবীরও দলবদল ঘটতে পারে।

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এদিনের জরুরি বৈঠকে ছিলেন মালদা জেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মণ্ডল, প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ও জেলার দুই কো–অর্ডিনেটর দুলালচন্দ্র সরকার ও অম্লান ভাদুড়ি। জানা গিয়েছে, বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরও। বৈঠকে মালদহের নেতাদের বলা হয়েছে, সাংগঠিনকভাবে ঝাপিয়ে পড়তে হবে প্রত্যেককে। ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের ও রাজ্য সরকারের কাজের প্রচারে পথে নামতে হবে। বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলাওয়াড়ি মিটিং, মিছিল, আন্দোলন প্রতিদিন করতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে মালদহের পর্যবেক্ষক ছিলেন। তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যাওয়ার জন্যই কি তড়িঘড়ি এই বৈঠক ডাকা হল?‌ এমন প্রশ্ন উঠলেও বৈঠকে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা গোটা বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। বরং তাঁদের বক্তব্য, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী পর্যবেক্ষক থাকাকালীন ওই জেলায় তৃণমূলের ফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। আদৌ সে বিষয় নিয়ে বৈঠক নয় বলে দাবি মালদহের তৃণমূল নেতাদের। তাঁরা জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলা এবং কী ভিত্তিতে দল এগোবে সে ব্যাপারে আলোচনা করতেই এদিনের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বন্ধ করুন