বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ক্রমশ প্রয়োজন ফুরাচ্ছে কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাবের সদস্যদের, অনিশ্চিত ভবিষ্যত
কলকাতার রাস্তায় করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের গ্রাফিটি। ছবি সৌজন্য : রয়টার্স (REUTERS)
কলকাতার রাস্তায় করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের গ্রাফিটি। ছবি সৌজন্য : রয়টার্স (REUTERS)

ক্রমশ প্রয়োজন ফুরাচ্ছে কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাবের সদস্যদের, অনিশ্চিত ভবিষ্যত

  • কিন্তু এই ক্লাবের সদস্য হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করছিলেন তিনি কলকাতার এক হাসপাতালে। সম্প্রতি সেটা নিয়েই তিনি অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

যা নিয়ে গর্ব করেছিলেন এক তরুণ, আজ সেটার ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি। বয়স মাত্র ১৯। নাম—আলমগীর শেখ। করোনাকে জয় করেছিলেন। আর তখন থেকেই ‘‌কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাব’‌–এর সদস্য হতে পেরে গর্ববোধ করেছিলেন। কিন্তু এই ক্লাবের সদস্য হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করছিলেন তিনি কলকাতার এক হাসপাতালে। সম্প্রতি সেটা নিয়েই তিনি অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

ঠিক কী ঘটেছে?‌ আলমগীর শেখ জানাচ্ছেন, ‘‌তিনি সম্প্রতি একটি চিঠি পেয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর পরিষেবার আর প্রয়োজন নেই। সেটা আমি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে জানাই। সেখানকার আধিকারিকরা আমাকে বলেন, আমার পরিষেবা দেওয়ার আর প্রয়োজন নেই। ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরাও তাই জানিয়েছেন এখানে।’‌ অথচ পাঁচ মাস ধরে এই হাসপাতালে পরিষেবা দিয়েছেন ১৯ বছরের তরুণ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুন মাসে যখন রাজ্যে কোভিড–১৯ একের পর এক রেকর্ড ভাঙছিল তখন রাজ্য সরকার এই ‘‌কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাব’‌ তৈরি করেছিল। যাঁরা করোনা জয়ী তাঁদের নিয়েই এই ক্লাব তৈরি করা হয়েছিল। এই ক্লাবের সদস্যরা বেশিরভাগই যুবক। বিভিন্ন হাসপাতালে ছড়িয়ে রয়েছেন। আর করোনা রোগীদের সেবা করে চলেছেন। শহর ও জেলা মিলিয়ে প্রায় ৬৮০ জন এমন সদস্য রয়েছেন। যাঁদের কাজই হল করোনা রোগীদের পাশে দাঁড়ানো।

এই ক্লাবের এর এক সদস্য আরব শেখ জানাচ্ছেন, ‘‌আমাদের অনেক রকম কাজ করতে হয় হাসপাতালে। সেটা রোগীকে সাহায্য করা থেকে তাঁদের বাথরুমে পৌঁছে দেওয়া। যখন ওষুধ দরকার তখন ওষুধ খাওয়ানো, জামাকাপড় পরিবর্তন করিয়ে দেওয়া, খাবার পৌঁছে দেওয়া এমনকী তাঁদের মানসিক জোর দেওয়ার কাজটাও করতে হয়।’‌ এখন ৫০০ জনের নীচে নেমে গিয়েছে করোনা সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা। এই বিষয়ে আর একজন বাপন দেওয়ান বলেন, ‘‌অনেককে বলে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি চলে যেতে। আগে দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ দেওয়া হতো। গত দু’‌মাস ধরে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিজের টাকায় খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। করোনা যোদ্ধাদের মাসে ১৫ হাজার টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। কিন্তু কারও কারও তা বন্ধও হয়ে গিয়েছে। যেমন আলমগীর ডিসেম্বর মাসের স্টাইপেন্ড পাননি।

স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‌এখন করোনাভাইরাস অনেকটা কমে এসেছে। এই ক্লাবের সদস্যদের চুক্তির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। স্টাইপেন্ড প্রতি মাসে দেওয়া হয়েছে। এখনও যেসব সদস্য কাজ করছেন তাঁদের করোনা টিকা দেওয়া হবে।’‌ এই ক্লাব তৈরির বিষয়টি চিকিৎসক অমরেন্দ্র রায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তা প্রথম ঘোষণাও করেছিলেন। এই বিষয়ে চিকিৎসক অমরেন্দ্র রায় বলেন, ‘‌এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে ক্লাবের সদস্যরা এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। জরুরি ভিত্তিতে তাঁরা সরকারকে পরিষেবা দিয়েছেন। এদের জন্য সরকারের ভাবনাচিন্তা করা উচিত। না হলে ভবিষ্যতে কেউ স্বেচ্ছাসেবক হতে চাইবেন না।’‌

বন্ধ করুন