বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ভবানীপুরে দম্পতি খুনে মিলল হারানো মোবাইল, রেইকি করেই অপারেশনের ছক‌
অশোক শাহ) এবং রশ্মিতা শাহ

ভবানীপুরে দম্পতি খুনে মিলল হারানো মোবাইল, রেইকি করেই অপারেশনের ছক‌

  • আবার ঘটনাস্থল থেকে বড় রাস্তায় বেরনোর তিনটি গলি রয়েছে। প্রথম গলি দিয়ে বেরনো যায় হরিশ মুখার্জি রোডে। আততায়ী সেই রাস্তা দিয়েই বেরিয়েছিল। পুলিশ কুকুর তেমন‌ই দিকনির্দেশ করেছে। তবে পালানোর জন্য অনেক বেশি নিরাপদ অন্য দু’টি গলি। দ্বিতীয় গলিটি দিয়ে বলরাম বোস ঘাট রোডে বেরনো যায়। 

ভবানীপুর দম্পতি হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে খুনির যোগ পাচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে পরিচিত কেউ এই ভাড়াটে খুনি নিয়ে এসেছিল বলেই অনুমান পুলিশের। এই খুনের পর মৃত দম্পতিদের মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে পুলিশের হাতে সেই দুটি মোবাইলের মধ্যে একটি এসেছে। মঙ্গলবার বেশি রাতে ধর্মতলা এলাকার একটি ম্যানহোলের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে সেটি। তারপরই মোবাইল ফোনের কললিস্ট খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

কী তথ্য পাচ্ছে পুলিশ?‌ পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের কিনারা করতে গিয়ে পুলিশকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কারণ, ঘটনাস্থলের আশপাশে একাধিক সিসি ক্যামেরা থাকলেও বেশিরভাগই বিকল। কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। কিন্তু তা আততায়ীদের ঢোকা–বেরনোর পথ ও তাদের চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তদন্তকারীদের অনুমান, আগে থেকে এলাকা রেইকি করে, খুঁটিনাটি খোঁজখবর নিয়েই দম্পতির উপর হামলা চালিয়েছে আততায়ীরা।

তদন্তে কী উঠে আসছে? তদন্তে উঠে আসছে,‌ পরিচিত কেউ এসেছিলেন বলেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন ওই দাম্পতি। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাতে সেভেন এমএম পিস্তল নিয়ে খুনি টার্গেট করে রশ্মিতা শাহকে। আততায়ীর গুলি মাথার পিছন দিক দিয়ে ঢুকে কান দিয়ে বেরয়। যদিও তার আগেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে রশ্মিতার স্বামী অশোক শাহকে। কারা সেদিন এসেছিল?‌ ঘনাচ্ছে রহস্য। গুলির শব্দ কেউ পেলেন না?‌

কী কী তথ্য হাতে এসেছে?‌ পুলিশ তদন্তে নেমে বেশ কয়েকটি তথ্য পেয়েছে। তার মধ্যে অশোক শাহের নিজের অফিস ছিল না। বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিংয়ে মেজ জামাইয়ের অফিসে তিনি বসতেন। তাঁর ফোনের শেষ লোকেশনও মিলেছে মেহেতা বিল্ডিং। তাই এই ঘটনার নেপথ্যে ব্যবসায়ীক যোগ থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবার ঘটনাস্থল থেকে বড় রাস্তায় বেরনোর তিনটি গলি রয়েছে। প্রথম গলি দিয়ে বেরনো যায় হরিশ মুখার্জি রোডে। আততায়ী সেই রাস্তা দিয়েই বেরিয়েছিল। পুলিশ কুকুর তেমন‌ই দিকনির্দেশ করেছে। তবে পালানোর জন্য অনেক বেশি নিরাপদ অন্য দু’টি গলি। দ্বিতীয় গলিটি দিয়ে বলরাম বোস ঘাট রোডে বেরনো যায়। তৃতীয় গলিটি দিয়ে বেরোলে কালীঘাট রোড। এই তিনটি রাস্তার মধ্যে প্রথম দু’টিতে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তৃতীয়টিতে নেই। তাই মনে করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলের রুট ম্যাপ আততায়ীরা সম্পূর্ণভাবে ছকে নিয়েছিল।

বন্ধ করুন