বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কলকাতায় সংবর্ধিত মুকুল রায় ও কেন্দ্রীয় নেতারা, গড়হাজির দিলীপ ঘোষ,জানেন না অনেকেই
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজেপি–র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। কলকাতায়। রবিবার। ছবি সৌজন্য : এএনআই
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজেপি–র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। কলকাতায়। রবিবার। ছবি সৌজন্য : এএনআই

কলকাতায় সংবর্ধিত মুকুল রায় ও কেন্দ্রীয় নেতারা, গড়হাজির দিলীপ ঘোষ,জানেন না অনেকেই

  • বেশ কয়েকজন নামী বিজেপি নেতাকে এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল তাঁরা জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্‌সের অডিটোরিয়ামে হওয়া এদিনের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না।

সম্প্রতি বিজেপি–র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়। এই পদোন্নতি উদ্‌যাপন ও মুকুল রায়কে সংবর্ধনা জানাতে রবিবার বিকেলে কলকাতায় হয় এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। কিন্তু তাতে দেখা গেল না রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ–সহ বহু নেতানেত্রীদের। জানা গিয়েছে, তাঁরা সকলেই কৃষি আইনের সমর্থনে কর্মসূচি পালনে রয়েছেন বিভিন্ন জেলায়।

২০১৭ সালে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর পর থেকেই বিজেপি–র কেন্দ্রীয় দলের সদস্য মুকুল রায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিজেপি–র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি পদ লাভ করেছেন। তাঁর পাশাপাশি বিজেপি–র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং জাতীয় সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা অরবিন্দ মেননকেও এদিন সম্মাননা জানানো হয়েছে।

এদিন বিজেপি–র রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের প্রতি ভাষণ দেন। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন তৃণমূল থেকে বিজেপি–তে যোগ–দেওয়া নেতাকর্মীরা। তাঁরা এদিন মুকুল রায় ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র আলিঙ্গনরত একটি বাঁধানো ছবি দুই নেতাকে উপহার হিসেবে তুলেও দেন।

এদিন মুকুল রায় বলেন, ‌‘‌আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে হলেও এখন আমি কেন্দ্রীয় দলের হয়ে কাজ করছি। বিজেপি নেতৃত্ব যদি আমাকে কোনও দায়িত্ব অর্পণ করতে চান তবে আমি সেটা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তৃণমূল সরকারকে উচ্ছেদ করাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।’‌ তাঁর এই কথাতেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়ে যায় যে মুকুল রায়কেই হয়তো আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কমিটির প্রধান করতে চলেছে বিজেপি।

এক হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তাবের ওপর এদিন জোর দেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘‌আমরা বাম থেকে নাকি ডানদিক থেকে এগিয়ে যাব সেটা ভাবনার বিষয় নয়। আমদের সব ধরণের মতামত থাকতে পারে। কিন্তু মূল লক্ষ্য একটাই। সেটা হল পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা করা।’‌

নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক এক রাজ্য বিজেপি নেতা ‘‌হিন্দুস্তান টাইমস’‌–কে বলেছেন, ‘‌রবিবারের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে বেশি জলঘোলা করা উচিত নয়। এদিন রাজ্যের প্রায় সমস্ত বিজেপি নেতারা শহরের বাইরে ছিলেন। তবে এটি ঠিক যে তৃণমূল থেকে বিজেপি–তে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্যোগেই এদিনের এই সম্মাননা অনুষ্ঠিত আয়োজন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘‌সর্বোপরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চায় যে অন্য দল থেকে বিজেপি–তে আরও লোকজন আসুক। তা হলে ২০২১–এর নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলকে হারানো আরও সহজ হবে।’‌

বেশ কয়েকজন নামী বিজেপি নেতাকে এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হল তাঁরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতার হো চি মিন সরণির ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্‌সের অডিটোরিয়ামে হওয়া এদিনের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না।

রবিবার রাতে খড়গপুরে ফেরার আগে পূর্ব মেদিনীপুরে কৃষি আইনের সমর্থনে পরপর ৪টি মিছিল করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ নেতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বলেন, ‘‌আমি এখন কলকাতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে। ওই অনুষ্ঠান কে বা কারা আয়োজন করেছে এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’‌ এদিকে, অনুপম হাজরা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় রবিবারের এই অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পারেননি।

ঘটনাচক্রে, বিজেপি–র কেন্দ্রীয় সম্পাদকে পদ থেকে রাহুল সিনহাকে অপসারিত করে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরাকে সেই জায়গায় বসিয়ে নির্বাচনের আগে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের একটি কড়া বার্তা দিয়েছে দল।

২৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এই রদবদলের ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাহুল সিনহা তৎক্ষণাৎ একটি ভিডিও বার্তায় তাঁর ভিন্নমত পোষণ করে বলেছিলেন, ৪০ বছর ধরে দলের দায়িত্ব পালন করার পরে তাঁকে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের জন্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল!‌ তবে এ ব্যাপারে রাহুল সিনহার পাশে দাঁড়িয়ে বাংলার কোনও বিজেপি নেতাকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি।

বন্ধ করুন