বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের নো এন্ট্রি, কড়া সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের, রায়ে অখুশি রাজ্য
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের নো এন্ট্রি, কড়া সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের, রায়ে অখুশি রাজ্য

  • মণ্ডপের ভেতরে পুজো সংক্রান্ত বা অন্যান্য কাজকর্ম পালনে সর্বাধিক ২০ থেকে ২৫ জন থাকতে পারবেন। সেই নামের তালিকা দিতে হবে পুলিশের কাছে।

‌করোনা পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে সর্বজনীন দুর্গোৎসব বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে এক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার সেই মামলার রায়ে রাজ্যের প্রতিটি পুজোমণ্ডপে ‘‌নো এন্ট্রি’‌ বোর্ড ঝোলানোর নির্দেশ দিল আদালত। বলা হয়েছে, প্রতিটি মণ্ডপ কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে গণ্য করা হবে। ছোট মণ্ডপের ক্ষেত্রে ৫ মিটার দূরত্বে ঝোলাতে হবে ‘‌নো এন্ট্রি’‌ বোর্ড আর বড় মণ্ডপের ক্ষেত্রে সেই দূরত্ব হবে ১০ মিটার। অর্থাৎ কোনও দর্শনার্থী মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা দর্শন যেটুকু সম্ভব তা করতে হবে চিহ্নিত ব্যারিকেডের বাইরে থেকে।

একইসঙ্গে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনস্বার্থ মামলায় রায় দিয়েছেন, মণ্ডপের ভেতরে পুজো সংক্রান্ত বা অন্যান্য কাজকর্ম পালনে সর্বাধিক ২০ থেকে ২৫ জন থাকতে পারবেন। সেই নামের তালিকা দিতে হবে পুলিশের কাছে। প্রথমদিন যে ২৫ জনের দল মণ্ডপে ঢুকবে তাঁদেরই অন্যান্য দিন এই কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। ওই তালিকায় আর কোনও নাম সংযোজন করা যাবে না। আর তালিকার বাইরে অন্য কাউকে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। ওই সদস্যের নামের তালিকা মণ্ডপের বাইরে টাঙাতে হবে।

যদিও কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশে রাজ্য সরকার অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা। ইতিমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারই সুপ্রীম কোর্টে যাওয়ার চিন্তাভাবন করতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তার সমস্ত কিছু খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রীম কোর্টে যেতে পারে রাজ্য সরকার। সূ্র মারফত জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের পাল্টা রিট পিটিশন করতে পারে রাজ্য।

রাজ্য সরকার যে ৩৪ হাজার পুজো উদ্যোক্তা ক্লাব বা কমিটিকে আর্থিক অনুদান দিয়েছে সেই প্রতিটি পুজো এই নির্দেশের আওতায় পড়ছে। কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ মানতে হবে পুলিশের খাতায় নথিভুক্ত রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটিকে। আর আদালতের এই নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করা হল কিনা সেই বিষয়টি লক্ষ্মীপুজোর পর হলফনামা দিয়ে আদালতে জানাতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি–কে। একইসঙ্গে আদালতের এই নির্দেশের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে অবগত করতে যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ ও পুজোকর্তাদের সচেতনতা প্রচারের কাজ শুরু করে দিতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এ ব্যাপারে জানান, নির্দেশে বলা হয়েছে ছোট মণ্ডপের থেকে ৫ মিটার ও বড় মণ্ডপের থেকে ১০ মিটার দূরে রাখতে হবে ‘‌নো এন্ট্রি’‌ বোর্ড। এই যে একটি বলয় তৈরি হচ্ছে তার ভেতরে দর্শনার্থীদের কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুজো দেখতে হবে সাধারণ মানুষকে। এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

বন্ধ করুন