বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > SSC scam: বেসরকারি সংস্থার নামেও দেওয়া হত ফ্ল্যাট ভাড়া, মোটা টাকা আয়
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।

SSC scam: বেসরকারি সংস্থার নামেও দেওয়া হত ফ্ল্যাট ভাড়া, মোটা টাকা আয়

  • জানা গিয়েছে ওই বাড়ির ফ্ল্যাট চিকিৎসকদের ভাড়া দিয়ে মোটা টাকা আয় করা হত। ইএম বাইপাস লাগোয়া আরএন টেগোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল তাদের চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, এই হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসক নার্স, স্বাস্থ্যস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পরে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই নতুন রহস্যের উন্মোচন হচ্ছে। পার্থর একাধিক সম্পত্তির হাদিস মিলেছে। এবার বেসরকারি সংস্থার নাম দেখিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ফ্লাট ভাড়া দিতেন বলে জানতে পেরেছে ইডি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়ি থেকে যে ১২টি দলিল উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে একটি হল সেন্ট্রি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এই সংস্থার মালিক করা হয়েছে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮৩ নম্বর তেতলা একটি বাড়ি এই সংস্থার মালিকাধীনে রয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির ফ্ল্যাট চিকিৎসকদের ভাড়া দিয়ে মোটা টাকা আয় করা হত। 

ইএম বাইপাস লাগোয়া আরএন টেগোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল তাদের চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, এই হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসক নার্স, স্বাস্থ্যস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তাদের অনেকেই দূরদূরান্তে থাকেন। তাই তাদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ফ্লাট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। মাদুরদহের ওই বাড়িটিতে চিকিৎসকদের থাকার জন্য ২০১৩ সালে সেন্ট্রি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে ওই সংস্থার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিল ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের তরফে প্রতি মাসে সেই টাকা সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

এখন প্রশ্ন উঠছে ওই বসতি বাড়িতেটিকে কীভাবে বাণিজ্যিক হিসেবে দেখানো হল? পুরসভার তরফ থেকেও বা বিষয়টি কেন খতিয়ে দেখা হয়নি? যদিও পুরসভার রেকর্ডে এ নিয়ে কোনও নথি নেই। তবে পুরো লাইসেন্স বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, ওই বাড়িতে ২০১১ সালের ১০ ডিসেম্বর সাগর গান্ধী এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা পুরসভার কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিল। তবে তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০১৩ সালের মার্চ মাসে। তারপর থেকে জমিটিকে ফাঁকা জমে হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এদিকে, যে সংস্থার নামে এই বাড়িটি রয়েছে তাদের ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে তারা লোহার যন্ত্রাংশ বিক্রি করে এবং তাদের মূল ঠিকানা দেওয়া রয়েছে ডায়মন্ড সিটির ফ্ল্যাটে। এ বিষয়ে প্রাক্তন আইপিএস নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়িটি যে ঠিকাদার তৈরি করেছিল তার মাধ্যমে ৬৮৩ নম্বর মাদুরদহের বাড়িটি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে বিক্রি করেছিল বলে শুনেছি। তাহলে কেন এখনও পর্যন্ত সেখানে ফাঁকা জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে পুরসভার রেকর্ডে? তা নিয়ে উঠছে হয়েছে প্রশ্ন।

বন্ধ করুন