বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > আংশিক লকডাউনে শুনশান শহর, জেলায় জেলায় দোকান বন্ধ করল পুলিশ
পুলিশ মাইকিং করে গিয়েছে এই সব বাজারগুলিতে।
পুলিশ মাইকিং করে গিয়েছে এই সব বাজারগুলিতে।

আংশিক লকডাউনে শুনশান শহর, জেলায় জেলায় দোকান বন্ধ করল পুলিশ

  • যদিও আজ সরকারি ছুটির কারণে বনধের চেহারা নিয়েছে অফিস পাড়া।

আজ শহরে প্রাণ নেই। জনমানবহীন রাস্তাঘাট আজ শুধুই ধূ ধূ প্রান্তর। কখনও কখনও হুশ করে বাস চলে যাচ্ছে। তখন বোঝা যাচ্ছে এটাই তিলোত্তমা। স্কুল–কলেজ সব লাটে উঠেছে। ছাত্রছাত্রীরা আজ গৃহবন্দি। পেশার তাগিদে মানুষের উপস্থিতিও আজ রাস্তায় খুব কম। সবারই মুখ ঢাকা। শহরে কথা আজ কম। গা বাঁচিয়ে চলতে শিখে গিয়েছে এই শহর। কারণ অণুজীবটির নাম করোনাভাইরাস। যা জীবের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তাই তো আজ সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত খোলা ছিল দোকান–বাজার। আবার খুলেছে দুপুর ৩টে নাগাদ। তবে তাও বন্ধ হয়ে যাবে বিকেল ৫টায়। এটাই নির্দেশ। যাকে বলা হচ্ছে—‘‌পার্শিয়াল লকডাউন’‌। আর আংশিক লকডাউনে ডালহৌসি চত্বর অনেকটাই ফাঁকা। ডেকার্স লেন থেকে কেউ হাঁক পাড়ছে না–দাদা এদিকে আসুন। অনেকে বলছেন আংশিক লকডাউন সাধারণ মানুষের তেমনভাবে অসুবিধা হবে না। পুরোপুরি লকডাউন করলে অনেক ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের। যদিও আজ সরকারি ছুটির কারণে বনধের চেহারা নিয়েছে অফিস পাড়া। শুনশান ডালহৌসি চত্বরে নস্টালজিক ট্রাম দাঁড়িয়ে রয়েছে যাত্রীদের আশায়। কিন্তু পথিকরা আজ যে পথে নামেননি।

নিউটাউনের অন্যতম বড় বাজার হলো গৌরাঙ্গনগর বাজার ও জ্যোতিনগর বাজার। রোজ সকালে এই বাজারে থাকে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু আজ তা দেখা গেল না। বাজারে লোক আজ খুবই অল্প সংখ্যক। বিক্রেতারা দোকান খুললেও সেভাবে নেই ক্রেতা। নিউটাউন থানার পুলিশ মাইকিং করে গিয়েছে এই সব বাজারগুলিতে। যাতে সময়ের মধ্যেই গুটিয়ে ফেলা যায় সবকিছু। তবু হুঁশ নেই রাজ্যের বহু জায়গায়। কোথায় লাঠি হাতে, কোথাও মাইকিং করে মানুষকে সরাল পুলিশ। কারণ সময় হয়ে গিয়েছে। সকাল ১০টা পার হয়ে যাওয়ার পরও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেল বাজারে ঘুরছেন মানুষজন, সবজি নিয়ে বসে রয়েছেন বিক্রেতারা। তাই পুলিশি তৎপরতা।

আবার আংশিক লকডাউনের প্রথম দিনে বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল সকালে। তা দেখে পুলিশের তরফ থেকে মাইকিং করা হয়। যাতে ১০টা বাজলেই কেস্টপুর মিশন বাজারের সমস্ত দোকান বন্ধ করা হয়। ১০টা বেজে গেলেও বাজারে ভিড় না কমায় পুলিশের তরফ থেকে আবারও মাইকিং করা হয়। পাশাপাশি লাঠি উঁচিয়ে ধমক পুলিশের। উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে আংশিক লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে জিম, সুইমিং পুল, শপিং মল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, রেস্তোরাঁ, বার। আর সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং দুপুর ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত বাজার খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। যদিও আজ দেখা গেল সকাল ১০টার পর বিভিন্ন জায়গায় বাজারগুলি খোলা। তাই শেষমেশ পুলিশ গিয়ে সেই বাজার বন্ধ করে।

এদিন বিধান মার্কেটেও ১০টার পরও দিব্যি চলছিল মাছ বাজার, ফল বাজার, সবজি বাজার। এছাড়াও খোলা ছিল অন্যান্য দোকানগুলি। সেখানে যান পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকরা। তারপরই ব্যবসায়ীদের সমস্ত দোকান বন্ধ করতে বলা হয়।

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে যে আপাতত সমস্ত ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। তারপরেও যদি দেখা যায় নির্দেশিকা অমান্য করা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে পুলিশের তরফে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা নিয়মবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল অন্ডালের উখরার সমস্ত হাটে। রাজ্যজুড়ে শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে আংশিক লকডাউন। দুর্গাপুর চেম্বার অব কমার্স এবং দুর্গাপুর নগর নিগম–সহ দুর্গাপুরের সমস্ত বাজার তিনদিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন প্রত্যেক মানুষকে মাস্ক পরার এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার। প্রশাসনের একেবারে নাকের ডগায় বাঁকুড়ার মাচানতলা বাজারে বেলা সাড়ে ১০টাতেও খোলা জামা কাপড় থেকে শুরু করে সবজি, ফলের ফুটপাথ–বাজার। আর সেই বাজারে কেনাকাটার জন্য ভিড়ও রীতিমত চোখে পড়ার মতো।

সকাল ১০টার পরও বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা, ফ্যান্সি মার্কেট–সহ অন্যান্য বাজারে কমবেশি প্রায় সব দোকান খোলা ছিল। আর এই খবর পুলিশের কাছে পৌঁছতেই পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দেয়। কাটোয়া শহরের কাছারি রোড, গোয়েঙ্কা মোড়, স্টেশন বাজার এলাকায় সরকারি নির্দেশকে অমান্য করে ১০টার পরও দোকান, বাজার খোলা রেখে ব্যবসা করছিল বেশ কিছু ব্যবসায়ী। কাটোয়া থানার পুলিশ সবজি বাজারে এসে বাজার বন্ধ করে। এছাড়াও খুলে রাখা শপিং মল, দোকান বন্ধ করে দেয়।

লাঠি হাতে চন্দ্রকোনা বাজার বন্ধ করে পুলিশ। চন্দ্রকোনা টাউন রেগুলেটেড মার্কেটে সকাল ১০টার পরেও চলছিল বাজার। সেই বাজার বন্ধ করতে অভিযানে নামে পুলিশ। সতর্ক করা হয় বিক্রেতাদের। জলপাইগুড়ি শহরের অধিকাংশের মত, আগে জীবন বাঁচাতে হবে। সাময়িক অসুবিধা হলেও সরকারের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই৷ সকাল থেকে জেলাজুড়ে বৃষ্টি পড়লেও লকডাউন কার্যকরী করতে পুলিশের টহলদারি অব্যহত। রাস্তাঘাট একপ্রকার শুনশান।

বর্ধমানের সবজি বাজার খোলা ছিল। বর্ধমানের তেঁতুলতলা বাজারে সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে দিব্যি বিকিকিনি চলছে। সকাল ১০টা বাজতেই রামপুরহাটে দোকান বাজার বন্ধ করতে অভিযানে নামল পুলিশ। করোনার সংক্রমণ কমাতে গতকালই আংশিক লকডাউনের নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। খড়গপুরে দোকান বন্ধ করতে ধমক দেয় পুলিশ।

বন্ধ করুন