বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > Eid: শেষ রবিবাসরীয় ছুটিতে জমজমাট ইদের বাজার, গত দুবছরের মন্দা কাটিয়ে বেড়েছে বিক্রি
জাকারিয়া স্ট্রিটের একটি দোকানে চলছে ইদের কেনাকাটা। নিজস্ব ছবি।
জাকারিয়া স্ট্রিটের একটি দোকানে চলছে ইদের কেনাকাটা। নিজস্ব ছবি।

Eid: শেষ রবিবাসরীয় ছুটিতে জমজমাট ইদের বাজার, গত দুবছরের মন্দা কাটিয়ে বেড়েছে বিক্রি

  • নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিটে অবস্থিত ৭৫ বছরের পুরনো পাঞ্জাবির দোকান কোয়ালিটি স্টোরসের ব্যবসায়ী আবদুল মোমিনের কথায়, প্রতিবছর সুতির পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের পাঞ্জাবি বিক্রি হয়ে থাকে।

আজ রবিবার। ইদ উল ফিতরের আগে শেষ ছুটির দিনে জমে উঠেছে বাজার। গ্রীষ্মের চড়া রোদ উপেক্ষা করেই কেনাকাটা করতে বেড়িয়ে পড়তে দেখা যায় মহানগর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের। গত দু'বছর লকডাউন থাকার জন্য মুখ থুবড়ে পড়েছিল ইদের বাজার। তবে এবার সপরিবারে পাঞ্জাবি, বোরখা, নতুন জামা কাপড় কিনতে বেরিয়ে পড়েছেন অনেকেই। এক কথায় জমজমাট ঈদের বাজার। তবে গ্রীষ্মের দাবদাহে এবার ব্যাপক বিক্রি বেড়েছে সস্তার সুতির পাঞ্জাবির। বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেল হাল-হকিকত। আর বিক্রি বাড়ার ফলে লাভের মুখ দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিটে অবস্থিত ৭৫ বছরের পুরনো পাঞ্জাবির দোকান কোয়ালিটি স্টোরসের ব্যবসায়ী আবদুল মোমিনের কথায়, প্রতিবছর সুতির পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের পাঞ্জাবি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে এ বছর গরম এবং সেইসঙ্গে গত দুবছর ধরে লকডাউন থাকার কারণে মানুষের হাতে অর্থাভাব রয়েছে। ফলে এখন মানুষ কম দামের সুতির পাঞ্জাবিই বেশি কিনছেন। আদি, কেমব্রিক, চিকন প্রভৃতি ডিজাইনের সুতির পাঞ্জাবি এখন বেশি কিনছেন ক্রেতারা। 

ওই রাস্তা ধরেই দু-তিনটি দোকান ছাড়িয়ে আরও একটি পাঞ্জাবির দোকান রঙিন আদি পাঞ্জাবিতে ভর্তি। ওই দোকানের মালিক সৈয়দ ইয়াসিনের কথায়, গত দুবছরে মন্দার কারণে এবার খুব বেশি নতুন ধরনের পাঞ্জাবি বাজারে আসেনি। পুরনো স্টাইলের পাঞ্জাবিই এখন চলছে। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা মূল্যের মধ্যে রয়েছে এই সব পাঞ্জাবি। বিগত বছরগুলোতে যেমন দেখা গিয়েছিল মাঝারি থেকে বেশি দামের পাঞ্জাবি বেশি মানুষ কিনেছিলেন। তবে এখন সেই চিত্রটা এবার পুরো উলটো। এখন কম দাম থেকে শুরু করে মাঝারি দামের পাঞ্জাবি বেশি কিনছেন মানুষ। অন্যদিকে, মেয়েদের পোশাকের মধ্যে আমব্রেলা বোরকা, স্ট্রেট লাইন বোরকা প্রভৃতি পোশাক বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এস এস শামীম স্টোরের এক কর্মী। তিনি জানান, হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যের বোরখা এখন বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সাধারণত প্রতিবছর ইদের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকেই বাজার শুরু হয়ে যায়। গত দু'বছর সেই ছবিটা দেখা যায়নি। তবে এখন আবার সেই ছবিটা দেখা যাচ্ছে। দু'বছর ধরে গত যেভাবে ব্যবসায়ীদের লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে এবার ইদের ১০ দিন আগে থেকেই বাজারে গতি আসতে শুরু করেছে। কলকাতার পাশাপশি বিভিন্ন জেলা থেকেও এবার ক্রেতারা আসছেন। একই ছবি দেখা গিয়েছে নিউ মার্কেট, মেটিয়াবুরুজ থেকে শুরু করে শহরের অন্যান্য বাজারগুলিতে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখন রাত ১ টা থেকে ২ টো পর্যন্ত বাজার খোলা রাখা হচ্ছে। কোয়ালিটি স্টোরসের অন্য এক ব্যবসায়ী শেখ মোবারক আলির কথায়, গত দুবছরের তুলনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বেশি পোশাক বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে গত দু বছরের ধাক্কা কাটিয়ে এবার কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

 

বন্ধ করুন