বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেতেই ৫ মাস, অভাবের জেরে শিশুখুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মা
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেতেই ৫ মাস, অভাবের জেরে শিশুখুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মা

  • এক চিকিৎসকের সাফাই, ‘‌রিপোর্ট অনেক আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। পুলিশকে জানানো হলেও তাঁরা হয়তো এই পরিস্থিতিতে বাড়তি কাজের চাপে সেই রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেননি। তাঁরা রিপোর্টটি নিয়েছেন জুলাই মাসের শেষে।’‌‌

ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। ৩ দিনের কন্যাসন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে কলকাতার এক হাসপাতলে ছুটে এসেছিল তার মা সোনিয়া সেন। ততক্ষণে মারা গিয়েছে ওই শিশু। শিশুটির ঘাড়ে অস্বাভাবিক দাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। যদিও সোনিয়া তাদের জানায়, তার সন্তান খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছে। আর তা সম্ভব নয় বুঝতে পেরেই ওই শিশুর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ।

এর পর করোনা আবহে মার্চে শুরু হয় লকডাউন। তার পর লকডাউন–আনলক কাটিয়ে প্রায় ৫ মাসের মাথায় ২৪ জুলাই ময়নাতদন্তের সেই রিপোর্ট হাতে এল পুলিশের। রিপোর্টে তদন্তকারী আধিকারিকরা পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন, গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তার ৩ দিনের সন্তানকে খুন করেছে সোনিয়া।

রবিবার সোনিয়াকে ধরে আনন্দপুর থানার পুলিশ। পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে সে স্বীকার করেছে যে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। সন্তানকে কী খাওয়াবে তা না বুঝতে পেরেই তাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে। খুনের কথা স্বীকার করতেই সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এত দেরিতে পাওয়া নিয়ে। কলকাতা পুলিশের এক বড় কর্তার মতে, ‘‌বোধহয় লকডাউন আর করোনা পরিস্থিতির জন্যই এত দেরি হল রিপোর্ট পেতে। তবে যাঁরা ময়নাতদন্ত করেছিলেন, সেই ডাক্তাররা এ ব্যাপারে আরও পরিষ্কার বলতে পারবেন।’‌

যদিও এই ময়নাতদন্তের সঙ্গে জড়িত এক চিকিৎসকের সাফাই, ‘‌রিপোর্ট অনেক আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। পুলিশকে জানানো হলেও তাঁরা হয়তো এই পরিস্থিতিতে বাড়তি কাজের চাপে সেই রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেননি। তাঁরা রিপোর্টটি নিয়েছেন জুলাই মাসের শেষে।’‌‌

এই তর্ক চলতে থাকলেও তার মধ্যে যে শিশুটির মৃত্যুরহস্যের জট খুলেছে, সেটাই এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট বলেই মনে করছে রাজ্যের পুলিশ মহল।

বন্ধ করুন