বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > তিন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দু ইস্যুতে বৈঠক পিকে’‌র, অপেক্ষা তৃতীয় দফা নিয়ে
প্রশান্ত কিশোর।
প্রশান্ত কিশোর।

তিন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দু ইস্যুতে বৈঠক পিকে’‌র, অপেক্ষা তৃতীয় দফা নিয়ে

  • বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই শুভেন্দুকে নিয়ে তৃণমূলের টেনশন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে তৃণমূলের তিন সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন ভোট–কৌশলী প্রশান্ত কিশোর।

রামনগরের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী আমাকে তাড়ায়নি, আমিও দল ছাড়িনি।’‌ এই মন্তব্যের পর থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল তাহলে বোধহয় মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়ে গেল। কিন্তু আদপে তা হয়নি। বরং একইরকম দূরত্ব রয়ে গিয়েছে। আর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই শুভেন্দুকে নিয়ে তৃণমূলের টেনশন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে তৃণমূলের তিন সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন ভোট–কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। এই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। যদিও সরকারিভাবে কোনওপক্ষই তা স্বীকার করেনি।

সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। এই আলোচনায় শুভেন্দু সরাসরি জানান, আপনি যা চেয়েছিলেন আমি তা করেছি। অর্থাৎ দলত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনও আপনি যে কথা রাখবেন বলেছিলেন তা রাখেননি। সেটা কবে রাখবেন জানান। দলের সঙ্গে কী আপনার কথা হয়েছে?‌ শুভেন্দুর রামনগরের সভার পর সৌগত রায়ের বক্তব্য ছিল, ‘‌আমি খুব খুশি হয়েছি। ওঁর মতো নেতার দলের খুব প্রয়োজন।’‌

শুভেন্দুর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে সৌগত রায় তাঁকে জানান, দলের সঙ্গে কথা পুরোপুরি হয়ে ওঠেনি। তবে দ্রুত কথা হবে এবং তোমার বিষয়টা আমি নিশ্চিতভাবে দেখব। দলকে জানিয়েই ব্যবস্থা করব। তার পরের দিনই কলকাতায় তিন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে বসলেন প্রশান্ত কিশোর। সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারী দু’‌দফায় বৈঠকে সৌগত রায়কে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে দলকে রিপোর্ট দিয়েছেন সৌগতবাবু। আর তা নিয়েই কথা হয়েছে। সেখানে শুভেন্দু বাড়তি ক্ষমতা চেয়েছেন। এমনকী তাঁকে উপ–মু্খ্যমন্ত্রী করতে হবে বলেও দাবি করেছেন। যা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে শুভেন্দুর সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক হবে বলে আগেই জানিয়েছেন সৌগতবাবু। তিনি বলেন, ‘‌শুভেন্দু একদিনও একবারও তৃণমূলের সমালোচনা করেনি। তৃণমূলেই আছে। অন্য কোনও কথা তো বলেনি। দুটো বৈঠক করে ফেলেছি। তৃতীয় বৈঠক শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবে।’‌ অর্থাৎ শুভেন্দুর এই দাবি এখন দলের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গিলতে পারা যাচ্ছে না, উগড়াতেও পারা যাচ্ছে না। তাই দলে যাঁদের নিয়ে শুভেন্দুর ক্ষোভ তাঁদের সঙ্গেই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে আর একটি সূত্র জানাচ্ছে, বিজেপি নাকি শুভেন্দুকে উপ–মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। ফলে এখানে না হলেও অন্য একটা দলে তা কনফার্ম। এখান থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট যে, মুখ্যমন্ত্রী করা হবে অন্য কাউকে। খেজুরি দিবস উপলক্ষ্যে নিজের গড়ে তৃণমূলের পতাকা ও প্রতীক ছাড়াই মিছিল করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভাষণে রাজনৈতিক বিষয় তোলেননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। বরং তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে, বাক স্বাধীনতার কথা। বাক স্বাধীনতার কথা বলে কাকে বার্তা দিতে চেয়েছেন শুভেন্দু? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

আসলে পিকে এই তিন সাংসদের কাছে জানতে চাইছিলেন শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা কী বুঝলেন। এখন শুভেন্দুর অবস্থান কী?‌ এমনকী শুভেন্দু ঠিক কী চাইছেন?‌ প্রশান্ত কিশোরকে তা খুলে বলে দেওয়া হয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাবেন। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তৃতীয় দফার বৈঠক। সেই বৈঠকের পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে জমি আন্দোলনের নেতাকে তাঁরা ধরে রাখতে পারছেন, নাকি পারছেন না। তার উপরই নির্ভর করবে মেদিনীপুরের ভোট কোনদিকে যাবে।

বন্ধ করুন