বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আই ডোন্ট মাইন্ড, পার্থর দায় ঝেড়ে ফেলে বললেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আই ডোন্ট মাইন্ড, পার্থর দায় ঝেড়ে ফেলে বললেন মমতা

  • কেউ কেউ কালকের একটা ঘটনা নিয়ে, একটা মহিলাঘটিত ব্যাপারে… তার বাড়ি থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করেছে। সেটা তো বিচারালয়ের ব্যাপার। বিচারাধীন বিষয়ে কথা বলব না। কিন্তু আমি চাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সত্য বেরিয়ে আসুক।

দোষ প্রমাণিত করে থাকলে কঠোরতম শাস্তি হোক, তবে ট্র্যাপ করা হয়নি কে বলতে পারে? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এমনই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রদান মঞ্চ থেকে কার্যত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কৃতকর্মের সব দায় ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেললেন তিনি। দাবি করলেন, চাকরি দেওয়ার নামে যে এত টাকা তোলা হয়েছে তা জানা ছিল না তাঁর।

এদিন মমতা বলেন, সবাই সাধু একথা আমি বলতে পারব না। সাধুর মধ্যেও ভূত আছে। সবাই ১০০ শতাংশ ঠিক কাজ করবে এটাও আমি বলতে পারব না। আমি না জেনে ভুল করে ফেললে ক্ষমা চাইব, সংশোধনের সুযোগ চাইব। কিন্তু জেনে শুনে আমার দ্বারা আজ পর্যন্ত কোনও অন্যায় হয়নি।

কেউ কেউ কালকের একটা ঘটনা নিয়ে, একটা মহিলাঘটিত ব্যাপারে… তার বাড়ি থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করেছে। সেটা তো বিচারালয়ের ব্যাপার। বিচারাধীন বিষয়ে কথা বলব না। কিন্তু আমি চাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সত্য বেরিয়ে আসুক। সত্যিতে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আই ডোন্ট মাইন্ড।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘যেদিন আমি শুনেছিলাম কয়েকটা ছেলে মেয়ে বঞ্চিত হয়েছে। আর সিপিএম আর বিজেপি তাদের নিয়ে রাস্তায় বসেছিল। আমি নিজে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলাম। আমি তদানিন্তন শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছিলাম, এই কটা কেস করে দিন। তারা বলল কয়েকটা আইন কানুন আছে। তা সত্বেও আমি এবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে যে কজন বঞ্চিত তার পরেও লিস্ট এক্সটেন্ড করে দিলাম। যাতে চাকরিগুলো তারা পায়। আমি পোস্ট ক্রিয়েট করে দিলাম। আদালতের রায় আছে, যদি কারও কোনও কাজ করতে গিয়ে একটা ভুল হয়ে থাকে তাকে একটা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত’।

এমনকী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘যে অন্যায় করেছে তাকে একবার নয় হাজারবার বলুন। আমার কিছু যায় আসে না। আর আমি মিডিয়া ট্রায়াল করব না। কারণ আমি এখনো জানি না এর মধ্যে কী কী ভূত আছে, কারা কারা আছে, কী ভাবে হয়েছে? আমি কী করে জানব? এটা ট্র্যাপ হয়েছে কি না সেটাও তো দেখতে হবে’।

দল ও সরকারের সঙ্গে পার্থ ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতার দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করে মমতা বলেন, ‘হুমকির কাছে মাথা নত করব না। আর যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, বিচারে প্রমাণিত হয়, তার দায়িত্ব সে নিজে নেবে। কারণ সরকার বা দলের সঙ্গে ওই মহিলার কোনও সম্পর্ক নেই।

আমি একটা প্যান্ডেলে গেছি পুজোর উদ্বোধনে। আমি কী করে জানব সেখানে কে কে আছে? একটা মহিলা না কি সেখানে দাঁড়িয়েছিল। সে না কি পার্থর বন্ধু। আমি কি ভগবান যে জানব কে কার বন্ধু? যদি কেউ খারাপ কাজ করে তাকে যত কঠিন শাস্তি দিক না কেন আমরা কেউ তাতে নাক গলাব না। পরিষ্কার কথা’।

 

বন্ধ করুন