বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বিপন্ন কাঁকড়া-চিংড়ি, পাতে আর কতদিন? প্রেসিডেন্সির গবেষণায় চমকে দেওয়া ইঙ্গিত

বিপন্ন কাঁকড়া-চিংড়ি, পাতে আর কতদিন? প্রেসিডেন্সির গবেষণায় চমকে দেওয়া ইঙ্গিত

বায়ুদুষণের জেরে কাঁকড়ার জীবনও বিপন্ন। সংগৃহীত ছবি। উইকিমিডিয়া

আসলে বায়ু দুষণও এর জন্য দায়ী। জলের সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশে তৈরি হচ্ছে কার্বনিক অ্য়াসিড। জলের মধ্যে অম্লতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ, কাঁকড়া, গলদার বাড়বাড়ন্তে সমস্য়া তৈরি হচ্ছে। মাছ ধরার ট্রলারের ডিজেলও মিশছে সমুদ্রের জলে। সব মিলিয়ে জীবন বিষময় হয়ে উঠেছে মাছ কাঁকড়ার।

জিভে জল আনা বাঙালির সাধের কাঁকড়া। আর গলদা চিংড়ির মালাইকারি হলে তো আর কথাই নেই। কিন্তু ভয়াবহ দুষণ সেই রসনা তৃপ্তিতেই এবার বড় অন্তরায় হতে পারে । এনিয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য়। গবেষণাতে দেখা যাচ্ছে কাঁকড়া ও চিংড়ির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বায়ু দুষণ।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্য়ালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক তথা মেরিন বায়োলজিস্ট সুমিত মণ্ডল ও গবেষক শ্রীতমা বাগ যৌথভাবে এই গবেষণা করেছেন। গবেষণাগারে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে পরীক্ষা করা হয়েছে। আর তারপর যে গবেষণালব্ধ ফল পাওয়া গিয়েছে তা চমকে দেওয়ার মতোই। কিছুটা উদ্বেগেরও। এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিউশন রিসার্চ নামে একটি পত্রিকায় এই গবেষণার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাপারটি ঠিক কী রকম?

অস্ট্রেলিয়া থেকে শিখে আসা বিশেষ পদ্ধতিকে এই গবেষণায় কাজে লাগিয়েছিলেন অধ্যাপক। সুন্দরবনের বনি ক্যাম্প এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বিশেষ কাঁকড়া। মূলত দুষণমুক্ত এলাকাতেই ছিল কাঁকড়াগুলি। সেই কাঁকড়াই কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কিছুটা দুষিত জলের মধ্য়ে রাখা হয়। আর সেই গবেষণায় দেখা যায় এই জলের মধ্য়ে থাকার জেরে কাঁকড়াগুলির খোলস পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এমনকী এগুলির বাড়বাড়ন্তও কমে যাচ্ছে। কিন্তু কীভাবে এটা হচ্ছে?

সূত্রের খবর, আসলে বায়ু দুষণও এর জন্য দায়ী। জলের সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশে তৈরি হচ্ছে কার্বনিক অ্য়াসিড। জলের মধ্যে অম্লতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ, কাঁকড়া, গলদার বাড়বাড়ন্তে সমস্য়া তৈরি হচ্ছে। মাছ ধরার ট্রলারের ডিজেলও মিশছে সমুদ্রের জলে। সব মিলিয়ে জীবন বিষময় হয়ে উঠেছে মাছ কাঁকড়ার। খোলস পাতলা হয়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। আর এই দুষণ কাঁকড়া আর গলদার ভবিষ্যতের জন্য় খুব খারাপ বার্তা বয়ে আনছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বন্ধ করুন