আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ধর্ষণ, খুন, সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট এবং দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে নেমেছে সিবিআই। ধর্ষণ করে খুনের তথ্য সিবিআই পেয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাটের কথা বলা হলেও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণই এখন সিবিআইয়ের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই আবহে আজ, বুধবার শিয়ালদা আদালতে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করল সিবিআই। মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্টেই সিবিআইয়ের দাবি, টালা থানায় বসেই ঘটনার যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেন তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। এমনকী নতুন রিপোর্ট তৈরিতেও হাতযশ ছিল তাঁর। আদালতে এই দাবি করে এবার বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আবেদন করল সিবিআই।
এদিকে আরজি কর হাসপাতাল অথবা স্বাস্থ্যদফতরের দুর্নীতির তদন্ত চলছে। আজও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ–খুনে আর দেরি করতে চাইছে না সিবিআই। কারণ এখন গোটা তদন্তের বিষয়টি দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। তাহলে কি ৩০ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে ধর্ষণ–খুনের চূড়ান্ত স্টেটাস রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দেবে সিবিআই? উঠছে প্রশ্ন। তথ্যপ্রমাণ লোপাট, ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে সিবিআই। তত্কালীন ওসি অভিজিত্ মণ্ডল ৬ দিন সিবিআই হেফাজতে ছিলেন। আজ, বুধবার অভিজিত্কে পেশ করা হয় শিয়ালদা আদালতে। সিবিআই এই দাবি করতেই জামিনের সপক্ষে সওয়াল করে অভিজিতের আইনজীবী বলেন, ‘সিবিআই যখনই তলব করেছে তখনই আমার মক্কেল হাজিরায় সাড়া দিয়েছে। ডিউটি নিয়ে কোনও প্রশ্নও তোলা হয়নি। এমনকী ৪১ নোটিশও দেওয়া হয়নি।’
আরও পড়ুন: অনুব্রত মণ্ডলের ছবিতে সেজে উঠল বোলপুর কার্যালয়, অন্য নেতারা গেলেন সাইডলাইনে
অন্যদিকে আজ, বুধবার সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে যান আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের মর্গের কর্মী। চিকিৎসক অপূর্ব বিশ্বাসকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই আবহে সিবিআইয়ের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে অনেক কিছু জানিয়েছি। আগামী ৩০ তারিখ আবার সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট দেব। আমাদের হাতে ম্যাজিক করার কিছু নেই। আমরা অপেক্ষা করছি। সিসিটিভি, মোবাইল সব বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাই এখন আমরা জেল হেফাজত চাইছি। তারপর আবার প্রয়োজনে নিজেদের হেফাজতে চাওয়া হবে।’ অভিজিতের আইনজীবীর পাল্টা সওয়াল, ‘ওপেন কোর্ট হলে পাবলিকের জানার জায়গাটা থাকবে। ওনারা অফিসিয়াল চাইলে আমরা বিরোধিতা করব।’
সিবিআই এবার ধর্ষণ–খুন মামলার চার্জশিটে ঘটনার বিবরণ, সন্দেহভাজনের ভূমিকার বিস্তারিত তথ্যের সঙ্গে উল্লেখ করবে সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাটের। কিন্তু তার জন্য লাগবে প্রমাণ। তাই একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এদিন আবার জামিনের আবেদন করে অভিজিতের আইনজীবীর দাবি, ‘যেকোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক। ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রাখলেও কোনও জেরা করেনি।’ তবে অভিজিতের নার্কো টেস্ট এবং সন্দীপের পলিগ্রাফ টেস্ট নিয়ে এদিনও আদালতে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।