বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ঘরে উদ্ধার মা–ছেলের পচাগলা দেহ, আর্থিক সঙ্কটের জের?‌ চাঞ্চল্য কানুনগো পার্কে
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ঘরে উদ্ধার মা–ছেলের পচাগলা দেহ, আর্থিক সঙ্কটের জের?‌ চাঞ্চল্য কানুনগো পার্কে

  • বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় পচা গন্ধ পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। তার আগে ওই বাড়ির বাসিন্দা ৮৮ বছরের মঞ্জুশ্রী মিত্র ও তাঁর ছেলে শুভময়কে ডাকাডাকিও করেন স্থানীয়রা। লাভ হয়নি।

এক ঘরে বৃদ্ধা মায়ের পচাগলা দেহ। আর তার পাশের ঘরেই গলায় ফাঁস–দেওয়া ছেলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল পাটুলি থানা এলাকার কানুনগো পার্কের। বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় পচা গন্ধ পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। তার আগে ওই বাড়ির বাসিন্দা ৮৮ বছরের মঞ্জুশ্রী মিত্র ও তাঁর ছেলে শুভময়কে ডাকাডাকিও করেন স্থানীয়রা। লাভ হয়নি। পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙে উদ্ধার করে মা ও ছেলের পচাগলা দেহ।

জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অবিবাহিত ছেলে শুভময়কে নিয়ে কানুনগো পার্কের ওই বাড়িতে থাকতেন মঞ্জুশ্রীদেবী। বেশ কয়েক বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর স্বামী স্নেহময়বাবু। লেক মার্কেটে তাঁদের একটি ভাড়ায় নেওয়া বইয়ের দোকানঘর ছিল। স্নেহময়বাবুর মৃত্যুর পর শুভময় ওই দোকান চালাতেন। আর তার থেকেই চলত সংসরা। কয়েক মাস আগে ভাড়ার সেই দোকানের দখল হারিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন শুভময়। প্রবীণ মা খুবই অসুস্থ। তাই পুরসভায় চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের কাজ নেন শুভময়। কিছু দিন চলার পর তাও হারান তিনি।

এর পরই রাস্তাঘাটে কম দেখা দেত শুভময়কে। প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ৭ দিনের মধ্যে একবারও মা–ছেলেকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। তার পরই বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হল তাঁদের পচাগলা দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, দেহের পাশ থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। তাদের অনুমান, বেশ কয়েক দিন আগেই কোনও স্বাভাবিক কারণে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মায়ের মৃত্যুর পরই ছেলে শুভময় আত্মহত্যা করেন। তবে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই দু’‌জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বন্ধ করুন