বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ভুয়ো আইনজীবীর সঙ্গে রুদ্রনীলের ছবি! ‌যোগ অস্বীকার বিজেপি নেতার
এই সেই বিতর্কিত ভাইরাল ছবি (‌সংগৃহীত)‌
এই সেই বিতর্কিত ভাইরাল ছবি (‌সংগৃহীত)‌

ভুয়ো আইনজীবীর সঙ্গে রুদ্রনীলের ছবি! ‌যোগ অস্বীকার বিজেপি নেতার

  • নিজেকে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেও পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো পরিচয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানোর অভিযোগ উঠেছে এই ভুয়ো আইনজীবী বিরুদ্ধে।

উদ্বোধন হয়েছিল ‌দেবাঞ্জনকাণ্ড দিয়ে। তারপর থেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে একের পর এক ভুয়ো আধিকারিক। কেউ সিবিআই-‌মুখ্য সচিব কেউ বা সিআইডি আবার কেউ পুলিশ আধিকারিক সেজে নীল বাতির গাড়ি নিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দেদার ঘুরে বেরিয়েছেন। প্রভাব খাটিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা করে গিয়েছেন। জনতার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠেছেন। এবার সেই তালিকায় সংযোজন হয়েছে ভুয়ো আইনজীবীও। তিনি আবার নিজেকে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেও পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ উঠেছে, ২০১৪ সাল থেকে বিজেপির সদস্যপদও প্রাপ্ত করেছিল এই ভুয়ো আইনজীবী। তাছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো পরিচয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানোর অভিযোগ উঠেছে এই ভুয়ো আইনজীবী বিরুদ্ধে।

এমন এক প্রতারকের সঙ্গে এবার বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে পদ্ম শিবির। যদিও তা ফুৎকারে উড়িয়েছেন তিনি। যে কোনও রকম তদন্তেও তিনি সাহায্য করবেন বলেই জানিয়েছেন রুদ্রনীল।

ঘটনাটি কি ঘটেছে?‌

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী হিসাবে পরিচয় দিতেন বরানগরের বাসিন্দা সনাতন রায়চৌধুরী। আরও অভিযোগ, যাতাযাতের জন্য ব্যবহার করতেন নীল বাতি লাগানো গাড়িও। শুধু তাই নয়, গাড়িতে সিবিআইয়ের স্টিকারও সাঁটানো থাকত বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, রাজ্য সরকারের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল ও সিবিআইয়ের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে গড়িয়াহাট এলাকার কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করেছিলেন সনাতন।

প্রতারিতরা ৩০ জুন গড়িয়াহাট থানার দ্বারস্থ হন। সোমবার সিঁথি থানা এলাকা থেকে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে মাথা ঘুরে গিয়েছে পুলিশের। শুধু তাদের থানাতেই নয়, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তালতলা থানাতেও সম্পত্তি সংক্রান্ত আরেকটি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি আরও অনেকের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা করে বেহিসেবি টাকা আত্মসাত করেছেন। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার পরিচয়ের তত্ব খাঁড়া করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন ওই ব্যক্তি।

এদিকে ধৃত ওই অভিযুক্তের সঙ্গে রুদ্রনীলের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসা নিয়ে রাজনীতির আঙিনায় জলঘোলা শুরু হয়েছে। রুদ্রনীল তাঁর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, অনেকেই তাঁর কাছে এসে ছবি তোলেন। সেই সময় কে ভুয়ো, কে সত্যি তা বোঝার উপায় থাকে না। তবে রুদ্রনীল স্বীকার করে নেন যে, এই ব্যক্তিকে তিনি আইনজীবী হিসাবেই চিনতেন।

এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌ এই ছবিটা ৪-‌৫ বছর পুরনো। তৃণমূল যদি এখন বলে এটা বিজেপি ঘনিষ্ট তাহলে সেটা ভুল হবে। কারণ, সেই সময় আমি তৃণমূল ঘনিষ্ট ছিলাম। আমার সঙ্গে ওই ব্যক্তি অনুরাগী হিসেবে পরিচয় করেছিলেন। ফুল দিয়ে ছবিও তুলেছিলেন তিনি। আইনজীবী হিসাবেই নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। কোথাকার আইনজীবী তিনি, তা জানার আগ্রহ আমার ছিল না। কারণ, অনেকেই এসে আমার সঙ্গে ছবি তোলেন।’‌

তিনি আরও বলেন, ‘‌ যারা এইরকম ভুয়ো কাজ করছেন, তাদের কড়া শাস্তি পাওয়া উচিত।যদি তদন্তকারীদের মনে হয় আমার সঙ্গে এই ব্যক্তির কোনও আর্থিক লেনদেন কিম্বা ফোনে কথা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেও আহবান জানালাম।’‌

 

বন্ধ করুন