বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > 'স্নেহ-ভালবাসা পাওয়ার কথা', নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে সৎ বাবাকে ৪০ বছরের জেল
যে বাবার কাছে শিশুর স্নেহ-ভালবাসা পাওয়ার কথা, সেই বাবারই লালসার শিকার হয়েছিল এক নাবালিকা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

'স্নেহ-ভালবাসা পাওয়ার কথা', নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে সৎ বাবাকে ৪০ বছরের জেল

  • চার মাসেই শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

যে বাবার কাছে শিশুর স্নেহ-ভালবাসা পাওয়ার কথা, সেই বাবারই লালসার শিকার হয়েছিল এক নাবালিকা। এই জঘন্য অপরাধের দায়ে সৎ বাবাকে সাজা দিল আদালত। লাগাতার ধর্ষণ এবং যৌন নিগ্রহের দায়ে অপরাধীকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিল শিয়ালদহ আদালত। 

পকসো আইনে এই মামলায় সৎ বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ দায়ের হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই মামলার শাস্তি ঘোষণা করা হল। সাধারণত পকসো মামলায় শিয়ালদহ আদালতে সর্বোচ্চ ২০ কুড়ি বছরের সাজা এর আগে দেওয়া হয়েছে। ৪০ বছর সাজা শিয়ালদহ আদালতে আগে দেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।

শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় এই মামলায় অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি ২০,০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিগৃহীতা কিশোরীকে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ জনের জন্য ডিস্ট্রিক্ট লিগাল অথরিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'যে বাবার কাছে শিশুর স্নেহ-ভালবাসা পাওয়ার কথা, সেই বাবাই যদি এই যখন অপরাধ করে তাহলে তা ক্ষমার অযোগ্য।'

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী পাকসার্কাসের বাসিন্দা। তার বাবা মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন তার মা। এরপরেই তার কয় বছর আগে ছেড়ে চলে যায়। এরপরেই সৎ বাবা তাকে মারধর এবং যৌন নির্যাতন শুরু করে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সইতে না পেরে অবশেষে প্রতিবেশী এক মহিলার কাছে সমস্ত কথা বলে দেয় ওই নাবালিকা। প্রতিবেশী ওই মহিলাই তাকে থানায় নিয়ে যায়। গত ২৩ জুলাই থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপরে নাবালিকার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। তাতে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে এই ঘটনায়, ১৩ জনের সাক্ষী নেওয়া হয়েছে।

বন্ধ করুন