ভাত-ডাল-তরকারি খেতে দিলে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভাত-ডাল-তরকারি খেতে দিলে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ছত্তিশগড় থেকে হেঁটে কলকাতা পৌঁছলেন ৭ শ্রমিক, ভাত পেয়ে ভাসলেন চোখের জলে

  • পাঁচ দিনে ৯০০ কিমি হাঁটাপথে শুধুমাত্র বিস্কুট খেয়ে তাঁরা খিদে মিটিয়েছেন।

টানা ৫ দিন হেঁটে ৯০০ কিমি পাড়ি দিয়ে কলকাতায় পৌঁছছেন পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সাত পরিযায়ী শ্রমিক। মঙ্গলবার শহরে পৌঁছানোর পরে তাঁদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েচে।

জানা গিয়েছে, পাঁচ জনের মধ্যে বাংলার বাসিন্দা ৫ জন এবং বিহারের ২ জন। বাংলার পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে তিন জনের বাড়ি উত্েতর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে ও ২ জনের একই জেলার কালিয়াগঞ্জে।আদতে বিহারের বারসোইয়ের বাসিন্দা দজুই শ্রমিক মালদা হয়ে বিহারে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন।

বরানগর পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসু জানিয়েছেন, সোমবার মাঝরাতে দক্ষিণেশ্বরের কাছে ওই সাত জনকে বিধ্বস্ত অবস্থায় রাস্তায় হাঁটতে দেখে তাঁদের উদ্ধার করে রাতের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয় মেট্রোরেলের নির্মীয়মান শেডের নীচে। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা গিয়েছে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়েসি সাত শ্রমিকই নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। মার্চ মাসের গোড়ায় তাঁরা ছত্তিশগড়ের রায়পুর শহরে একটি সংস্থায় কাজে যোগ দেন। লকডাউন জারি হলে নির্মাণকাজ থেমে যায়, যার জেরে তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এই কারণে তাঁরা নিজ রাজ্যে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাভাব ও পরিবহণের অভাবে তাঁরা গোটা পথই হেঁটে পাড়ি দেবেন বলে ঠিক করেন।

পাঁচ দিন হাঁটাপথে শুধুমাত্র বিস্কুট খেয়ে তাঁরা খিদে মিটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পুরসভার তরফে ভাত-ডাল-তরকারি খেতে দিলে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মঙ্গলবার বেলঘরিয়া থানার আদিকারিকরা এই সাতজনকে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আপাতত তাঁদের কামারহাটি পুরসভা পরিচালিত এক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানিয়েছেন, সাত শ্রমিককে খাবার, সাবান ও অন্যান্য অত্যাবশকীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। পরিশ্রান্ত শ্রমিকরা বিশ্রাম নিচ্ছেন। তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বন্ধ করুন