বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > হিন্দুত্বের প্রশ্নে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল তৃণমূল, মুকুলের টুইটে জবাব দিলীপের
দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়। ফাইল ছবি
দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়। ফাইল ছবি

হিন্দুত্বের প্রশ্নে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল তৃণমূল, মুকুলের টুইটে জবাব দিলীপের

  • এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলায় বিজেপির হিন্দুত্ব বিরোধিতা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা।

বিজেপির অস্ত্রেই বিজেপিকে ঘায়েল করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য–রাজনীতি। দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলিকে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আর তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ ঠুকেছেন বিজেপির নেতারা। যদিও তাতে বিশেষ আমল দেয়নি কমিশন বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলায় বিজেপির হিন্দুত্ব বিরোধিতা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। আর তাতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন বঙ্গ–বিজেপির নেতারা। সর্বজনীন দুর্গাপুজো বানচাল করতে চাইছে বলে বুধবার থেকে একের পর এক টুইট করে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। অস্বস্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে হিন্দুত্ব শিখতে হবে না বিজেপিকে। অতীতে করা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছেন ওঁরা।’

গতকাল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন। তারপরেই রে রে করে বিজেপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে নালিশ ঠোকে। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়, ‘হিন্দু সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্বঘোষিত ধারকঁ–বাহকরা কোনওভাবেই হিন্দুত্বকে বোঝে না। হিন্দুদের উৎসবকে সম্মান করতেও ভুলে গিয়েছে ওরা। মা দুর্গা এবং বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের শ্রদ্ধার বহর প্রকাশ হয়ে গেল! এটা চরম লজ্জার কাজ।’

তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় হতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা–কর্মীদের পোস্ট— ‘বিজেপি ইনসাল্ট মা দুর্গা’। হ্যাশট্যাগ দিয়ে আক্রমণ শুরু হয়। রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, নেতা–সহ কর্মীরাও বিজেপিকে আক্রমণ করেন। এমনকী একুশের নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের দুর্গাকে নিয়ে করা একটি মন্তব্যের ভিডিও নিজের টুইটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়ও টুইট করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘হিন্দুত্বের উপরে এই আঘাত কি মেনে নেওয়া যায়?’

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি এভাবে ট্রোলড হওয়ায় অস্বস্তি চরমে ওঠে। তখন বাধ্য হয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে ওঁরা ভাবুন। এই বাংলায় দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য আদালতেও যেতে হয়েছে অতীতে। এখন কি হিন্দুত্বের প্রতি সেই সব অপমানের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছে তৃণমূল?’ এভাবে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এটাই চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

বন্ধ করুন