বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বিধানসভায় কাছাকাছি মুকুল-শুভেন্দু, ফুল-বদল সত্ত্বেও বজায় থাকবে 'ঘনিষ্ঠতা'
শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)
শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)

বিধানসভায় কাছাকাছি মুকুল-শুভেন্দু, ফুল-বদল সত্ত্বেও বজায় থাকবে 'ঘনিষ্ঠতা'

  • সূত্রের খবর, মুকুল রায় এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আলাদা আলাদা সারিতে বসলেও থাকবেন একে অপরের পাশাপাশি।

শাসকদলে যোগ দিয়েও খাতায় কলমে মুকুল রায় এখনও বিজেপির বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে দলত্যাগ বিরোধী আইনের কবলে না পড়তে কৃষ্ণনগরের উত্তরের বিধায়ক বসতে চলেছেন বিরোধীদের জন্যে বরাদ্দ আসনে। আর এই আসন বণ্টনের জেরে বিধানসভাতে কাছাকাছি থাকতে চলেছেন মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। আগে জানা গিয়েছিল মুকুল রায় বসবেন মনোজ টিগ্গা, মিহির গোস্বামীদের পাশে। তবে এখন বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে আসন বদল হতে পারে মুকুলের। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছাকাছি কোনও আসন বরাদ্দ হতে পারে মুকুলের জন্যে।

এর আগে বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনে মুকুল রায় বসেছিলেন বিজেপি ও তৃণমূল পরিষদীয় দলের জন্য বরাদ্দ আসনগুলির মাঝামাঝি একটিতে। গত বার সেখানে বসতেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ও ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক আনিসুর রহমান। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুকুল রায়কে নির্লজ্জ, ত্রিশঙ্কু বলে আখ্যা দেন দিলীপবাবু। তবে দিলীপের কটাক্ষ সত্ত্বেও বিধানসভার অন্দরে ছিল সৌজন্যের আবহ। বিধনসভায় বিজেপির মুখ্যসচেতক মনোজ টিগ্গা ও হবিবপুরের বিধায়ক জুয়েল মুর্মু মুকুলের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। পরে জানা যায়, বেশ কয়েকজন বিধায়কের আসন বদল হবে। সূত্রের খবর, বিজেপি পরিষদীয় দলের বিধায়কদের বরাদ্দ আসনেই মুকুল রায়ের বসার ব্যবস্থা হতে পারে।

সাধারণত রাজ্যের বিরোধী দলের আসন হয় অধ্যক্ষের বাঁদিকে। অধ্যক্ষের বাঁদিকে বিধায়ক গ্যালারির প্রথম সারিতে থাকবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা-সহ অন্যরা। সূত্রের খবর, সেই আসনগুলির কাছাকাছি কোথাও স্থান পাবেন মুকুল রায়। বিধানসভার তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট বা দলের সদস্যদের জন্যে যে আসনটি বরাদ্দ করা হয়, মুকুলের জন্যে সেই আসন বরাদ্দ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। যেহেতু তৃতীয় শক্তি হিসেবে কোনও দল বা জোট এবার বিধানসভায় নেই, তাই মুকুল রায় এবং সংযুক্ত মোর্চার বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে এই সামনের সারিতে আসন দেওয়া হতে পারে। আর তা হলে মুকুল রায় এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আলাদা আলাদা সারিতে বসলেও থাকবেন একে অপরের পাশাপাশি।

এদিকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে মুকুল রায়ের নির্বাচন আটকাতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। পাশাপাশি তাঁর বিধায়ক পদ যাতে খারিজ হয়, সেই নিয়েও দৌড়ঝাঁপ জারি রেখেছে গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, এই দ্বন্দ্বের মাঝেই মুকুল-শুভেন্দু পাশাপাশি বসেন কি না।

 

বন্ধ করুন