বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ৬৬ বছরের বাবার বিয়ে দিলেন ছেলে, কলকাতায় মুক্তমনা হল সমাজ
তরুণকান্তি পাল এবং স্বপ্না রায় (ছবি সৌজন্য টুইটার @shayonpal)
তরুণকান্তি পাল এবং স্বপ্না রায় (ছবি সৌজন্য টুইটার @shayonpal)

৬৬ বছরের বাবার বিয়ে দিলেন ছেলে, কলকাতায় মুক্তমনা হল সমাজ

এক মিষ্টি প্রেমের গল্প সম্পূর্ণতা পেল। আসলে সমাজ মুক্তমনা হচ্ছে। তার প্রমাণ মিলল। প্রকৃত অর্থেই আধুনিক আর প্রগতিশীল হওয়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল সমাজ।

অনেক সময়ই শুনতে পাওয়া যায়, এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তিকে রেগে বলছেন, বাবার বিয়ে দেখেছিস?‌ এমন মারব, বাবার বিয়ে দেখিয়ে ছাড়ব। তবে এবার তা বাস্তবে পরিণত হল। কিন্তু কোনও মারামারি বা রাগারাগি এখানে ঘটেনি। বরং এক মিষ্টি প্রেমের গল্প সম্পূর্ণতা পেল। আসলে সমাজ মুক্তমনা হচ্ছে। তার প্রমাণ মিলল। প্রকৃত অর্থেই আধুনিক আর প্রগতিশীল হওয়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আমাদের সমাজ। তাই তো নিঃসঙ্গ বাবাকে ফের সম্পর্কের মধুরতায় ফেরাল ছেলে। প্রেম শুধু বয়স নয়, প্রেম মানে না জাত–ধর্ম–বর্ণ–সীমান্ত কিচ্ছু! প্রেম শুধুই প্রেম! এক মনের সঙ্গে অপর মনের মিলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ছেলের কাহিনী দেখে কুর্নিশ করেছেন নেটিজেনরা।

কলকাতার বাসিন্দা তরুণকান্তি পালের বয়স ৬৬ বছর। গত ১০ বছর ধরে একাই থাকেন তিনি। একমাত্র ছেলে সায়ন কর্মসূত্রে থাকেন কানাডায়। স্ত্রী গত হয়েছেন ১০ বছর আগে। তারপর থেকেই একাকী, নিঃসঙ্গ জীবন তরুণবাবুর। ভট্টনগরের গ্রামে আদিবাড়ি সায়নদের। দু’‌বছর আগে অবসরগ্রহণের পর পর সেই গ্রামের রামকৃষ্ণ মঠে দু’‌বেলা হাঁটতে যেতেন তরুণবাবু। সেখানেই আলাপ স্বপ্না রায়ের (৬৩) সঙ্গে। তারপর তিনি প্রেমে পড়েন এবং বাবার প্রেমকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্যে ছেলে বিয়ে করিয়ে দিলেন বাবার। অত্যন্ত মিষ্টি একটি সম্পর্ক জোড়া লাগায় খুশি প্রত্যেকে।

একে অপরের কাছে পরিচিত হতে থাকে আর সম্পর্কের বাঁধুনি মজবুত হয়ে ওঠে। ফোন নম্বর আদানপ্রদান হওয়ার পর শুরু হয় কথা বলা, শুরু হয় পথ চলা। একদিন দু’জনেই বুঝতে পারেন, একে অপরকে হৃদয়ে জায়গা দিয়ে ফেলেছেন। স্বপ্না রায়ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন। একাকীত্ব তাঁকেও গ্রাস করছিল। এখানে মনে পড়ে যায় সেই সংলাপ— 'শহরটা যেন বৃদ্ধাবাস হয়ে গেল!' সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আজ নেই। রয়েছে তাঁর কর্ম, তাঁর মুখের সংলাপ।

দুই নিঃসঙ্গ আত্মা যেন পরিপূর্ণ হল দু’জনকে পেয়ে। প্রেমে যেহেতু পড়েই গেলেন, তাই তরুণকান্তি এবং স্বপ্না সিদ্ধান্ত নেন একে অধরা রাখবেন না। সেই প্ৰেমকে তাঁরা বিয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা দেবেন। কিন্তু ছেলেকে না জানিয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে চাননি তরুণবাবু। সব কথা জানার পর ছেলে সায়নও সহমত হন। নিজেই বাবার বিয়ের আয়োজন করেন।

তাই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কানাডা থেকে কলকাতায় চলে এলেন। বাবা সঙ্গী পেয়েছেন, বাবা সুখী হবেন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন, তার চেয়ে ভালো পাওয়া সন্তানের জীবনে আর কিছু হতে পারে না। তাই এসেই বাবার বিয়েতে কীভাবে কী করা যায়, সে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে পুত্র দাঁড়িয়ে থেকে বাবা এবং নতুন সঙ্গী মায়ের বিয়ে দিলেন। আবার বলা যেতে পারে, বাবার বিয়ে দেখল ছেলে। বহু বছর পর শূন্য হয়ে থাকা তরুণকান্তির বাড়ি যেন আবার আলোয়–আনন্দের বন্যা বয়ে গেল।দুই হৃদয়কে মিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে কোনও অন্যায় দেখেন না সায়ন। তাই চান, এ বার বাবাও একটু সুখের মুখ দেখুন। ৬৩ বছরের নতুন মাকে পেয়ে সুখী পুত্র সায়নও। হবেন নাই বা কেন, ‘মা’ বলে ডাকার মতো একজনকে তো পেলেন তিনি!

বন্ধ করুন