বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মৃতদেহ আটকে রাখল এসএসকেএম, টাকা না মেটালে না ছাড়ার হমকি, তোলপাড়
এসএসকেএম হাসপাতাল। ফাইল ছবি
এসএসকেএম হাসপাতাল। ফাইল ছবি

মৃতদেহ আটকে রাখল এসএসকেএম, টাকা না মেটালে না ছাড়ার হমকি, তোলপাড়

  • সেই স্বাদের হাসপাতালে কিনা মৃতদেহ আটকে রাখার অভিযোগ!‌ হ্যাঁ, বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বেসরকারি হাসপাতালে যে অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই, এবার সেই অভিযোগ উঠল খাস কলকাতার সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। খোদ এসএসকেএমের বিরুদ্ধে উঠল অভিযোগ। যে হাসপাতাল কিনা মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে উন্নীত হয়েছে। সেই স্বাদের হাসপাতালে কিনা মৃতদেহ আটকে রাখার অভিযোগ!‌ হ্যাঁ, বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গিয়েছে, এসএসকেএম–এর উডবার্ন ওয়ার্ডের কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ ছাড়তে নারাজ হয় কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের অভিযোগ, ওই মৃতার ৩৮ হাজার টাকা বাকি রয়েছে। সেই টাকা না দিলে দেহ মর্গে পাঠানো হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয় রোগী পরিবারকে। এই ঘটনা নিয়েই শোরগোল পড়ে যায় গোটা এসএসকেএম চত্বরে। দেহ হাতে না পেয়ে মৃতার ৮৭ বছরের বৃদ্ধ বাবা হাসপাতালে বসেই থাকলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই বেনজির ঘটনায় হতবাক সর্বস্তরের মানুষ।

পরিবার সূত্রে খবর, গড়িয়ার বাসিন্দা ৪৭ বছরের মহিলা বর্ণালী মণ্ডল কয়েকদিন আগে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বাপের বাড়িতেই গার্হস্থ হিংসার শিকার হন বর্ণালী বলে অভিযোগ। শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়া তাঁকে চিকিৎসার জন্য আনা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। বর্ণালী দেবীর মৃত্যু হয় রবিবার। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে টাকার জন্য আটকে রাখা হল মহিলার দেহ। এই ঘটনায় হতভম্ব আত্মীয়–স্বজনরা। টাকা না দিলে মর্গে পাঠানো হবে না দেহ বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর টাকা দেওয়ার পরই দেহ ছাড়া হয়।

এই বিষয়ে চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম বলেন, ‘‌এই ঘটনা আইনত অপরাধ। পরিবার মামলা করুন, তাহলে দোষীরা শাস্তি পাবেন। করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিকভাবে সকলেই বিপর্যস্ত। সেই অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে দেহ আটকে রাখার কথা হামেশাই শোনা যায়। এখন একই অভিযোগ উঠছে সরকারি হাসপাতালেও।’‌ তবে স্বাস্থ্য দফতর এসএসকেএমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে খবর। কারা এই ঘটনায় যুক্ত এবং ঘটনার সত্যাসত্য জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

বন্ধ করুন