বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকেই তুরুপের তাস করে এসটিএফ, নিকেশ দুই গ্যাংস্টার
নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে গা–ঢাকা দিয়েছে পাঞ্জাবের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে গা–ঢাকা দিয়েছে পাঞ্জাবের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকেই তুরুপের তাস করে এসটিএফ, নিকেশ দুই গ্যাংস্টার

  • কিন্তু তখনও পুলিশ অনুমান করতে পারেনি নেপথ্যে গ্যাংস্টার রয়েছে। কিন্তু এই দু’‌জনকে জেরা করতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশের।

সূত্রটি তৈরি হয়েছিল একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে। গত রবিবার বীরভূমের সিউড়ি থেকে অস্ত্র–বিস্ফোরক সহ একটি ট্রাক আটক করেছিল পুলিশ৷ বিহার থেকে ট্রাকটি আসছিল। সেখানে থাকা দু’‌জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ কিন্তু তখনও পুলিশ অনুমান করতে পারেনি নেপথ্যে গ্যাংস্টার রয়েছে। কিন্তু এই দু’‌জনকে জেরা করতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। তখন কলকাতা পুলিশের এসটিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানানো হয় বলে সূত্রের খবর।

তারপর দফায় দফায় জেরা করে নিউটাউনে গা–ঢাকা দেওয়া পাঞ্জাবের এই দুই মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার যশপ্রীত জসসি এবং জয়পাল বুল্লারের খোঁজ পায় পুলিশ৷ গ্রেফতার হওয়া দু’‌জনের মোবাইলেও ছিল নিউটাউনে লুকিয়ে থাকা যশপ্রীত–জয়পালের নম্বর৷ সেটাকেই তুরুপের তাস করে এসটিএফ কর্তারা। পাঞ্জাবের এই দুই অপরাধীই ওই বিস্ফোরক–অস্ত্রের বরাত দিয়েছিল৷ মোস্ট ওয়ান্টেড দুই অপরাধী কোথায় লুকিয়ে আছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই বুধবার অপারেশনে নামেন পুলিশ কর্তারা। দুপুর বেলা গোটা আবাসন ঘিরে ফেলাতেই চলল নাগাড়ে গুলি। কাউন্টার অ্যাটাকে নামে এসটিএফ’‌ও। ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাজ্য পুলিশ৷

আটক করা ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রায় কুড়ি কেজি বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। দু’‌জনকে তখনই গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তাঁদের জেরা করেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে গা–ঢাকা দিয়েছে পাঞ্জাবের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার। এই অস্ত্র এবং বিস্ফোরকের বরাত তারাই দিয়েছিল৷ এখানে কোনও জঙ্গি যোগ আছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

এসটিএফ সূত্রে খবর, পাঞ্জাবের মোস্ট ওয়ান্টেড দুই গ্যাংস্টারের গতিবিধির উপরে নজর রাখতে শুরু করে এসটিএফ কর্তারা৷ পুলিশ যে তাদের উপরে নজর রাখছে, তা বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেনি তারা৷ পুলিশকে লক্ষ্য করে তাই গুলি চালাতে শুরু করে৷ গুলিতে আহত হন কার্তিক ঘোষ নামে এসটিএফ–এর একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার৷ এসটিএফ–এর গুলিতে মৃত্যু হয় জয়পাল বুল্লার এবং যশপ্রীত জসসি নামে পাঞ্জাবের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার৷

পুলিশ সূত্রে খবর, দুই গ্যাংস্টারের গতিবিধি জানতে সিউড়ি থেকে ধৃত দু’‌জনকেই টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়৷ ওই দু’‌জনকে দিয়েই পাঞ্জাবের ওই দুই গ্যাংস্টারকে ফোন করা হয়৷ নিজেদের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তারা কোথায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, সে সম্পর্কে বিশদে সবকিছু জানিয়ে দেয় যশপ্রীত–জয়পাল৷ আর তারপরই অপারেশনের জন্য দল গঠন করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ৷

এখন কার ফ্ল্যাটে ওই দুই গ্যাংস্টার গা–ঢাকা দিয়েছিল বা ভাড়া নিয়েছিল, তা জানতে ফ্ল্যাটের মালিকের পরিচয়ও খুঁজে বের করা হচ্ছে৷ পাঞ্জাবের এই দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় খুন, অপহরণ, অস্ত্র পাচারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলেই খবর৷

বন্ধ করুন