বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > জেলায় জেলায় ‘বিদ্রোহে’র নয়া ঢেউয়ে নাজেহাল BJP, দুই বিধায়ককে কড়া বার্তা সুকান্তর
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (এএনআই) (Amit Sharma)

জেলায় জেলায় ‘বিদ্রোহে’র নয়া ঢেউয়ে নাজেহাল BJP, দুই বিধায়ককে কড়া বার্তা সুকান্তর

  • একাধিক জেলায় দলীয় পদ ছাড়ছেন দলের নেতারা। এদিকে রাজ্য নেতৃ্ত্বের ‘সমালোচনা’ শোনা যাচ্ছে সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরাদের মতো হেভিওয়েটদের মুখেও।

শৃঙ্খলা, রীতি-নীতি মেনে চলতে হবে দলে থাকতে হলে। গেরুয়া শিবিরের বিদ্রোহী নেতাদের এই ভাষায় সতর্ক করলেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। উল্লেখ্য, গতকাল দলের রাজ্য কমিটির সম্পাদক পদ ছাড়তে চেয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বহরমপুরের বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্রও দলীয় পদ ছাড়তে চেয়ে চিঠি পাঠান। এই একই দিনে আবার নদিয়ার ১০ নেতা দলের বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্বকে। বিদ্রোহের এই গনগনে আঁচে বসে আছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন বালুরঘাটের সাংসদ।

সদ্য প্রকাশিত উপনির্বাচনের ফলে বিজেপির ভরাডুবির পরই সুর চড়িয়েছেন গৌরীশঙ্কর। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের জেতা আসন বিজেপি ধরে রাখতে অক্ষম হয়। অপরদিকে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে থেকে জমানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিজেপির। এই সব হারের জন্য রাজ্য নেতৃত্বকে দায়ী করেন গৌরীশঙ্কর। তবে সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, গৌরীবাবুর আনা অভিযোগ সঠিক নয়। এদিকে গৌরীশঙ্কররের পদত্যাগের পরই বহরমপুরের বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্র রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। দলের রাজ্য কর্মসমিতি থেকে পদত্যাগ করেন মুর্শিদাবাদের দুই নেতা বাণী গঙ্গোপাধ্যায় এবং দীপঙ্কর চৌধুরী। পদত্যাগী নেতাদের পদত্যাগত্র গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এরই মাঝে রবিবার সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলা সবার আগে।’

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার রবিবার বলেন, ‘কারও কোনও সমস্যা থাকলে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানোর পরেও খুশি না হলে রাজ্যের পর্যবেক্ষককে জানাতে পারেন। এর পরেও সর্বভারতীয় সভাপতিকে জানাতে পারেন।’ প্রসঙ্গত, গৌরীশঙ্করের অভিযোগ ছিল, জেলা সভাপতি এমন লোকেদের দায়িত্ব দিচ্ছেন যাদের তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত রয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, কাউকে কিছু জানিয়েও লাভ হয়নি। এর প্রেক্ষিতে দলের রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘অনেকেই যে অভিযোগে পদত্যাগ করছেন, তা সত্যি নয়। আর তাই সন্দেহ হয় যে এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কি না। মণ্ডল সভাপতিদের নাম প্রকাশের আগেই তিনি কী করে জানলেন যে তাঁর (গৌরীশঙ্কর) প্রস্তাব মানা হচ্ছে কি না?’ এদিকে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের সহ-সভাপতি সৌমিত্র খাঁ এবং দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরাও। এর প্রেক্ষিতে সুকান্তর বক্তব্য, ‘তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত পেশ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা নিয়ে কথা বলবে।’

বন্ধ করুন