বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > চার জন তৃণমূল নেতার ‘অবৈধ সম্পত্তি’র তালিকা প্রকাশ শুভেন্দুর
বিধানসভায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

চার জন তৃণমূল নেতার ‘অবৈধ সম্পত্তি’র তালিকা প্রকাশ শুভেন্দুর

  • এদিন শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার সম্পত্তির তালিকা তারা জোগাড় করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজে তছরূপ করে এই সম্পত্তি করেছেন তৃণমূল নেতারা।

বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনে বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠক করে ৪ তৃণমূল নেতার অবৈধ সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তালিকা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, আজ প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করলাম। আরও আছে। পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।

এদিন শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার সম্পত্তির তালিকা তারা জোগাড় করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজে তছরূপ করে এই সম্পত্তি করেছেন তৃণমূল নেতারা। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৪ তৃণমূল নেতার সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, এটাই কি ডায়মন্ড হারবার মডেল?

কুলতলির বিধায়ক গণেশচন্দ্র মণ্ডলকে দিয়ে শুরু করে তিনি বলেন, ‘১০০ দিনের টাকায় সব থেকে বেশি দুর্নীতি হয়েছে কুলতলিতে। কুলতলির বিধায়ক গণেশচন্দ্র মণ্ডলের মোট ৩৯ দলিল পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি গণেশবাবুর নিজের নামে। ১৬টি দলিল গণেশবাবুর স্ত্রী মৌসুমী মণ্ডলের নামে। ৪টি করে দলিল মেয়ে রস্মি ও ঋত্বিকার নামে। বাবা শিবপদ মণ্ডলের নামে ১টি ও মা গৌরীবালা মণ্ডলের নামে ১টি দলিল।

গণধর্ষণ করে গলা টিপে খুন করা হয়েছিল লখিমপুরের দুই বোনকে, ঘটনায় পুলিশের জালে ৬

এর পর পলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গির খানের সম্পত্তির বিবরণ দেন তিনি। বলেন, তোলাবাজ ভাইপোর সব থেকে বড় এজেন্ট। মিস্টার ১৫ পারসেন্ট বলা হয় এলাকায়। জাহাঙ্গির খানের মোট দলিল ৩৯টি । তার মধ্যে নিজের নামে রয়েছে ৬টি সম্পত্তি। স্ত্রী সারিকা বিবির নামে রয়েছে ৩১টি সম্পত্তি। শালি সুলতানা বিবির নামে রয়েছে ২টি সম্পত্তি।

শুভেন্দুর তালিকায় ছিল ডায়মন্ড হারবার ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গৌতম অধিকারীর নামও। শুভেন্দু দাবি করেন, ‘গৌতমবাবুর মোট সম্পত্তি ১১টি। সবই ২০১৯ – ২০২১-এর মধ্যে কেনা। এর মধ্যে ৬টি সম্পত্তি নিজের নামে। স্ত্রী উমা অধিকারীর নামে ৩টি সম্পত্তি। মেয়ে ঈশিতা অধিকারীর নামে রয়েছে ২টি সম্পত্তি।’ শুভেন্দুর দাবি, এই সব সম্পত্তি নির্বাচনী হলফনামায় দেখাননি গৌতমবাবু’।

এর পর ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল নেতা সামিম আহমেদ মোল্লার নাম করেন তিনি। বলেন, ‘সামিম আহমেদের নামে ১০টি সম্পত্তি রয়েছে। তবে এই সম্পত্তি তাঁর নিজের নয়। তোলাবাজ ভাইপোর পিএ এস রায় তাকে দিয়ে বেনামে এই সম্পত্তি কিনিয়েছে। সম্পত্তি রয়েছে রহমতুল্লাহ হাকিম ও সুজাউদ্দিন মোল্লার নামে’।

এদিন শাসকদলের ৪ নেতার সম্পত্তির তালিকা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘ওরা বলছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় একা চুরি করেছে। ফিরহাদ হাকিম, সৌগত রায় একথা বলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন। আমি আজ নীচু তলা থেকে শুরু করলাম। এরকম তৃণমূলের কাছে ১০০ জন নেতার সম্পত্তির তালিকা আমার কাছে রয়েছে।’

 

বন্ধ করুন