বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > করোনার উপসর্গ সত্ত্বেও স্কুলে আসতে 'বাধ্য করা হল' শিক্ষিকাকে, রিপোর্ট এল পজিটিভ
বেহালা চৌরাস্তার বড়িশা প্রাইমারি স্কুলে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।
বেহালা চৌরাস্তার বড়িশা প্রাইমারি স্কুলে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।

করোনার উপসর্গ সত্ত্বেও স্কুলে আসতে 'বাধ্য করা হল' শিক্ষিকাকে, রিপোর্ট এল পজিটিভ

  • স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রাজ্যে করোনা সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার থেকে বিধ নিষেধ জারি করেছে রাজ্য সরকার। নবান্নের নির্দেশ মত সমস্ত স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে স্কুল কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজকর্ম চলছে। পাশাপশি শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী করোনায আক্রান্ত হলে তাঁকে ১৪ দিনের হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এমনকী জ্বর, সর্দি, কাশির মতো উপসর্গ থাকলেও স্কুলে আসা যাবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে শিক্ষা দফতর। এই সমস্ত উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও এক শিক্ষিকাকে জোর করে স্কুলে আসতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল বেহালা চৌরাস্তার বড়িশা প্রাইমারি স্কুলের টিচার ইনচার্জের বিরুদ্ধে।

স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অভিযোগ, এক শিক্ষিকার জ্বর থাকা সত্ত্বেও তাঁকে স্কুলে আসতে বাধ্য করেছিলেন টিচার ইনচার্জ অর্জুন রায়। ওই শিক্ষিকা জানিয়েছিলেন, জ্বর থাকার কারণে তাঁর পক্ষে স্কুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তারপরেও গত ১ জানুয়ারি একপ্রকার তাঁকে স্কুলে আসতে বাধ্য করেছিলেন অর্জুন রায়। এরইমধ্যে করোনা পরীক্ষা করেন ওই শিক্ষিকা। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপর এই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়েছে।

শুধু তাই নয়, তাঁদের আরও অভিযোগ, এর আগেও এই ধরনের কাজ করেছেন টিচার ইনচার্জ। একজন শিক্ষকের ছেলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানা সত্ত্বেও টিচার ইনচার্জ তাঁকে স্কুলে আসতে বলেছিলেন। শিক্ষিকাদের প্রশ্ন, যেখানে রাজ্য সরকারের নির্দেশ রয়েছে সেখানে কীভাবে টিচার ইনচার্জ এরকম বলতে পারেন?

শিক্ষিকারা দাবি করছেন, বাধ্য হয়ে করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসছেন। শুধু তাই নয়, একাধিক অভিভাবকও ওই শিক্ষিকার সংস্পর্শে এসেছিলেন। এই অবস্থায় রাজ্যে যেভাবে করোনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন ওই স্কুলের শিক্ষিকারা। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অর্জুন রায়। 'এ সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ' বলে তিনি দাবি করেছেন।

বন্ধ করুন