বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > তৃণমূলের সভায় শুদ্ধকরণের ডাক সৌগতর, শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আহ্বান মদনের

তৃণমূলের সভায় শুদ্ধকরণের ডাক সৌগতর, শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আহ্বান মদনের

সৌগত রায়

বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘এখানে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা শপথ নিন। কোনও অন্যায় করব না, কোনও অন্যায় কাউকে করতে দেব না। দল এবং দিদিমণির অস্বস্তির কারণ হবো না। এটা পারি না? পারি, করি না।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কামারহাটিতে তৃণমূলের সভায় দুর্নীতি রোধ ও হিংসামুক্ত ভোটে জোর দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন একের পর এক তৃণমূল নেতা দলের শুদ্ধকরণ ও হিংসামুক্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আহ্বান জানান। যা শুনে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা।

এদিন দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘বোধ হয় এখন একটা সময় এসেছে, আমরা দলের মধ্যে ঝাড়াই বাছাই করি। যারা যে কোনও কারণেই দলে এসেছিলেন বা আছেন আর্থিক সুবিধার জন্য। তাদের বোধ হয় দল থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে। কারণ আমাদের ৯৫ শতাংশ কর্মী সৎ ভাবে কাজ করেন। আমরা চাই না কিছু লোক তাদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য দলের ভাবমূর্তিকে বলি দেয়’।

কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, ‘ওই মেরে পঞ্চায়েত নিয়ে নেব, এই চিন্তা থেকে সরে যান। মেরে পঞ্চায়েত নিতে চাই না। কোথাও যদি কোনও ভুল হয়, ডাইরেক্ট কর্মীরা এসে নেতাকে বলুন, এই কাজ আপনি ঠিক করেননি। এটা আপনার অন্যায় কাজ হচ্ছে। তারপর যদি সেই কর্মীর ওপর কোনও আক্রমণ হয় তাহলে সেই দায়িত্ব আমরা সব নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিয়ে নেব। কিন্তু নেতাদের অন্যায় হলে তো বলতে হবে। কিন্তু দয়া করে এমন কিছু করবেন না যাতে আমার পাপের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসটার কোনও ক্ষতি হয়’।

বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘এখানে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা শপথ নিন। কোনও অন্যায় করব না, কোনও অন্যায় কাউকে করতে দেব না। দল এবং দিদিমণির অস্বস্তির কারণ হবো না। এটা পারি না? পারি, করি না। আমি এখনও বলছি, যে সমস্ত বিরোধী দল লম্ফঝম্প করছে তারা ক’ শতাংশ প্রার্থী দিতে পারে দেখুন’।

যা শুনে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া, ‘সৌগত রায় কয়েকদিন আগে বলেছিলেন পিঠের চামড়া দিয়ে পায়ের জুতো বানানো হবে। এরা কী বলল যায় আসে না। এদের এখন নেতা অভিষেক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পৌরসভা ভোটের আগে অভিষেক বলল একেবারে কোনও এদিক ওদিক করা যাবে না। পৌরসভায় ৯৭ শতাংশ ভোট জবরদোস্তি করে নেওয়া হয়েছে। লুঠ বন্ধ করলে তৃণমূল দলটা থাকে কিছু? দুর্নীতি, লুঠ ছাড়া তৃণমূল হয় না কি? তৃণমূলের নেতারা বুঝে গেছেন পুলিশের পাহারা ছাড়া আর রাস্তায় বেরোতে পারবেন না। তাই এক এক সময় এক এক রকম কথা বলছেন’।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সৌগত রায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমি শুনলাম উনি বোমা বানানোর ফরমুলাও দিয়েছেন। পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন, রাজনীতিতে অবসরের সময় হয়ে এসেছে। উনি ভালো করে জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ওনাকে প্রার্থী করবেন না। তাই নিজের বিষয় নিয়ে আবার পড়াশুনো শুরু করেছেন। তাই মাঝে মাঝে যাত্রাপালার বিবেকের মতো বিবেকের বাণী শোনাচ্ছেন’।

 

বন্ধ করুন