বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > Singur Movement: ‘‌আমাদের বুদ্ধবাবু জমি চোর ছিলেন’‌, দেবাংশুর ফেসবুক পোস্টে সিঙ্গুর নিয়ে আলোড়ন

Singur Movement: ‘‌আমাদের বুদ্ধবাবু জমি চোর ছিলেন’‌, দেবাংশুর ফেসবুক পোস্টে সিঙ্গুর নিয়ে আলোড়ন

তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।

২০০৬ সালের ১৮ মে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ি তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন রতন টাটা। ২৫ মে থেকে ৯৯৭ একর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বাংলার বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধিতা শুরু হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের হামলার অভিযোগ ওঠে।

সিঙ্গুর থেকে টাটাদের ন্যানো প্রকল্পকে তিনি তাড়িয়ে দেননি। বরং তাড়িয়েছে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। তিনি কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন। বুধবার শিলিগুড়িতে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান থেকে এই দাবিই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর সিপিআইএম–বিজেপি একসঙ্গে সমালোচনা করতে মাঠে নেমে পড়েছে। এমনকী সিঙ্গুর আন্দোলনের নেতা হয়েও মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এখন অবশ্য তিনি বিজেপিতে। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে চাঁচাছোলা ফেসবুক পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।

ঠিক কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে বুধবার বলেছিলেন, ‘‌কেউ কেউ বাজে কথা বলছে, টাটাকে আমি তাড়়িয়েছি। আর টাটা চাকরি দিচ্ছে। টাটাকে আমি তাড়াইনি। সিপিএম তাড়িয়েছে। পলিটিক্যাল কথা এখানে বলতে চাই না। আপনারা লোকের জমি জোর করে দখল করতে গিয়েছিলেন। আমরা জমি ফেরত দিয়েছি। জায়গার তো অভাব নেই। আমি জোর করে কেন জমি নেব?‌ আমরা এত প্রোজেক্ট করেছি। কিন্তু জোর করে জমি তো আমরা নিইনি। আমি পরিষ্কার বলি এখানে যত শিল্পপতি আছে কোনও বৈষম্য নয়। আমরা চাই বাংলায় তাঁরা ইনভেস্ট করুন। এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন।’‌

ঠিক কী লিখেছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য?‌ এদিন সিঙ্গুর নিয়ে যখন আবার রাজ্য–রাজনীতি তোলপাড় তখন একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‌কদিন আগে নয়ডাতে একটি বিরাট বড় অট্টালিকা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল। সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ টেলিকাস্ট হল। সবাই চোখ মেলে দেখল, হু হু করে ধসে গেল সবটা। ওই বিল্ডিং ধুলিস্যাৎ হওয়ার জন্য দায়ী কে? সেই এলাকাবাসী, যারা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল, নাকি সে, যে ওই বেআইনি নির্মাণ তুলেছিল? দু’‌ক্ষেত্রে দুই রকম মতামত হলে যে চলবে না কাকা!! কারণ সুপ্রিম কোর্ট যেমন বলেছিল নয়ডার ওই বিল্ডিং বেআইনি, তেমনই এই সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ বেআইনি। ঠিক যে কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাকা চুরিকে যদি ভদ্র ভাষায় বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ‘‌বেআইনিভাবে টাকা নেওয়া’‌ বলা যায়। তাই উল্টো ভাবে ‘‌বেআইনিভাবে জমি নেওয়া’‌কে সোজা ভাষায় জমি চুরি বলা চলে। সেই সূত্রে, সোজা ভাষায় বললে আমাদের বুদ্ধবাবু জমি চোর ছিলেন। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্য।’‌

ঠিক কী জানা যাচ্ছে?‌ ২০০৬ সালের ১৮ মে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ি তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন রতন টাটা। ২৫ মে থেকে ৯৯৭ একর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বাংলার বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধিতা শুরু হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের হামলার অভিযোগ ওঠে। ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর সিঙ্গুরে গিয়ে আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের ‘অনিচ্ছুক’ কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ২৬ দিন ধর্মতলার মোড়ে অনশন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাটার হাতে জোর করে জমি তুলে দেওয়ায় কৃষকদের আত্মহত্যা শুরু হয়। ২৪ অগস্ট থেকে টানা ১৫ দিন দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে অবস্থান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ২০ অগস্ট বুদ্ধদেব–মমতার আলোচনার মধ্যস্থতা করেন। কিন্তু তা সফল হয়নি। অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিতে হবে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন ন্যানো কারখানা রাজ্যের বাইরে সরানোর হুঁশিয়ারি দেন রতন টাটা।

বন্ধ করুন