বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মমতার কাছে সরকার চালানো শেখা উচিত মোদীর, স্বাস্থ্যসাথীর প্রশংসায় বললেন অভিষেক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

মমতার কাছে সরকার চালানো শেখা উচিত মোদীর, স্বাস্থ্যসাথীর প্রশংসায় বললেন অভিষেক

  • এদিন টুইটে অভিষেক বলেন, ‘‌জাতি–ধর্ম–বর্ণ–শ্রেণি নির্বিশেষে পশ্চিমবঙ্গের সকল মানুষ এই পরিষেবায় উপকৃত। এটা আবার প্রমাণিত হল যে আজ যা বাংলা ভাবে তা আগামীকাল ভাবে ভারত।’‌

সরকার বা প্রশাসন কীভাবে চালাতে হয় তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শেখা উচিত নরেন্দ্র মোদীর— শুক্রবার একটি টুইটে রাজ্যের ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌ প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রের ‘‌আয়ুষমান ভারত’‌–এর তুলনা টেনে এভাবেই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন টুইটে অভিষেক বলেন, ‘‌জাতি–ধর্ম–বর্ণ–শ্রেণি নির্বিশেষে পশ্চিমবঙ্গের সকল মানুষ এই পরিষেবায় উপকৃত। এটা আবার প্রমাণিত হল যে আজ যা বাংলা ভাবে তা আগামীকাল ভাবে ভারত।’‌

বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে ১ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত নাগরিক স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবে। প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হবে ১টি করে স্মার্টকার্ড। সেই কার্ডের মাধ্যমে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা করাতে পারবেন তাঁরা। এই ঘোষণার পরপরই টুইটারে শুরু হয় এর প্রচার, শুরু হয় হ্যাশট্যাগ স্বাস্থ্যসাথী ফর অল (‌#SwasthyaSathi4All)‌। সেই প্রচারেরই অঙ্গ হিসেবে অভিষেক এদিন ওই টুইট করেন। ওই টুইটে কেন্দ্রের ‘‌আয়ুষমান ভারত’‌–এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর পরিষেবাগত কী কী পার্থক্য রয়েছে তা তুলে ধরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল সাংসদ টুইটে এই তথ্যগুলি তুলে ধরেছেন— স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবার সূচনা হয় ২০১৬–র ডিসেম্বর মাসে আর আয়ুষমান ভারত চালু হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। যেখানে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ১০০ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার, সেই তুলনায় আয়ুষমান ভারতের জন্য মাত্র ৬০ শতাংশ অর্থ দেয় কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পান। কিন্তু দেশের যে সব রাজ্যে আয়ুষমান ভারত চালু হয়েছে, সেখানকার প্রতিটি বাসিন্দা সেই প্রকল্পের সুবিধা পান কিনা সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই কেন্দ্রের কাছে।

অভিষেক আরও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথীর আওতাভুক্ত পরিবারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার জন্য একটা টাকাও নেয় না রাজ্য সরকার। কিন্তু আয়ুষমান ভারতের পরিচয়পত্রের প্রিন্ট আউট পেতে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে পরিবাররে পাঁচজন সদস্য থাকলে খরচ করতে হবে ১৫০ টাকা। পরিবারের যিনি প্রধান মহিলা সদস্য তাঁর নামেই দেওয়া হয় স্বাস্থ্যসাথী স্মার্ট কার্ড। সেই মহিলা, তাঁর স্বামী ও সন্তানদের পাশাপাশি এই পরিষেবা পাবেন তাঁর মা–বাবা ও তাঁর শ্বশুর–শাশুড়িও।

একইসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেছেন, স্মার্ট কার্ড থাকায় হাসপাতালে ভর্তির যে প্রক্রিয়া তাতে কোনও সমস্যা হয় না। কোনওভাবে তাতে দেরিও হয় না। কিন্তু আয়ুষমান ভারত প্রকল্পের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে খুবই ধীর গতিতে কাজ হয় বলে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, রাজ্যের ৭.৫ লক্ষ মানুষ আগে থেকেই স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে ছিলেন। বাকিদের মধ্যে যাঁরা অন্য কোনও স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ পান না তাদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আনল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারবে প্রতিটি পরিবার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ১৫০০ বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রকল্পের অধীনে মিলবে ক্যাশলেস সুবিধা। এছাড়া দিল্লির এইমস ও ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালেও এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

বন্ধ করুন