বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > গ্রামে গিয়ে চুনোমাছ খেতে হবে রাজ্য নেতাদের, পিকনিকের আশায় জল ঢাললেন নেত্রী মমতা

গ্রামে গিয়ে চুনোমাছ খেতে হবে রাজ্য নেতাদের, পিকনিকের আশায় জল ঢাললেন নেত্রী মমতা

মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (PTI Photo) (PTI)

কার্যত সতর্ক করে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজন হলে মানুষ সেটা ভালোভাবে নেবেন না। একেবারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একেবারে সাধারণভাবে দিন কাটানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আবাস যোজনার দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষ। গ্রামে গ্রামে দুর্নীতির অভিযোগের আঁচ ক্রমশ ছড়াচ্ছে। আর সেই পরিস্থিতিতে এবার গ্রামে গ্রামে নেতাদের রাত্রিবাসের পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নজরুল মঞ্চে দলের রাজ্যস্তরের নেতাদের রুটিন বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা হয়েছে আগামী ২ মাস ধরে দলের রাজ্যস্তরের প্রায় সাড়ে তিনশো নেতা গ্রামে গ্রামে থাকবেন। ১০দিন ধরে গ্রামে রাত্রিবাস করবেন তারা। কিন্তু রাজ্যস্তরের নেতারা গ্রামে গিয়ে খাবেন কী? কার্যত সেই মেনুটাও ঠিক করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

কার্যত সতর্ক করে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজন হলে মানুষ সেটা ভালোভাবে নেবেন না। একেবারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একেবারে সাধারণভাবে দিন কাটানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গ্রামে যে তৃণমূল নেতারা যাবেন তাদের জন্য কী খাওয়া দাওয়া হবে সেটাও ঠিক করেছেন খোদ নেত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যাহ্নভোজ করা মানে এলাহি আয়োজন নয়। ভাত, ডাল, তরকারি বড় জোর একটু ডিমের ঝোল। কিংবা গ্রামে অনেক কুচো মাছ পাওয়া যায়।তা দিয়েই খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন জায়গায় জেলা সফরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অবশ্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যান। এমনকী একেবারে প্রান্তিক মানুষদের বাড়িতেও তৃপ্তি করে খেয়েছেন মমতা। কিন্তু তাঁর দলের রাজ্য নেতারা কি গ্রামের প্রান্তিক মানুষদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের মতো করে খাওয়া দাওয়া করতে পারবেন?

আসলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের রাজ্য নেতাদের অনেকেই বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত। ঝা চকচকে গাড়ি থেকে নেমে গ্রামের মাটির দাওয়ায় দুদন্ড বসার আর প্রয়োজন বোধ করেন না অনেকেই। সেক্ষেত্রে গ্রামে গিয়ে তাঁরা রাজকীয় আয়োজন করতে পারেন বলে কি আঁচ করতে পেরেছেন খোদ নেত্রী? সেই নিরিখেই কি এবার নেতাদের সতর্ক করে দিলেন খোদ নেত্রী?

অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে আবাস যোজনার দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে স্থানীয় স্তরের নেতাদের। অনেকে আবার ইস্তফাও দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এবার কার্যত ড্যামেজ কন্ট্রোলে পাঠানো হচ্ছে রাজ্য নেতাদের। কিন্তু তাঁদের জীবনযাত্রা দেখে আবার হিতে বিপরীত হবে না তো দলের কাছে? তবে এনিয়ে মমতার আগাম সতর্কতা, এলাহি আয়োজন নয়, চুনো মাছ খেতে হবে নেতাদের। এখানেই অনেকের প্রশ্ন, খাসির মাংস, বিরিয়ানিতে অভ্যস্ত নেতাদের মুখে কি চুনো মাছ আদৌ ভালো লাগবে?

 

বন্ধ করুন